০৫ জুন ২০২৬

দৈনন্দিন

ইউএনও’র সংবাদ সম্মেলন

আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি থাকায় বনফুলকে জরিমানা

প্রতিনিধি, ওসমানীনগর, সিলেট

প্রকাশঃ ৪ জুন, ২০২৬ ৫:১৯ অপরাহ্ন


সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

বুধবার (৩ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে আপা ডাকার পর ‘৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়টি এমন নয় দাবি করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আগেও বনফুলকে সতর্ক করেছি। কিছুদিন আগে আমি ক্রেতা সেজে বনফুলে মিষ্টি কিনতে গেলে দেখা যায় অনেক আগের বাসি মিষ্টি। কতদিন আগের মিষ্টি সেটা জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারী একেকজন একেক ধরনের তথ্য দেন। আমি মিষ্টির চালান দেখতে চাইলে প্রথমে চালান দেখাতে না চাইলেও পরে আমার পুরো টিম আসার পর চালান দেখান। পরবর্তীতে এক কর্মচারী স্বীকার করেন নতুন মিষ্টির সাথে পুরাতন মিষ্টি মিলিয়ে বিক্রি করছেন। তখন আমি ম্যানেজারকে নিয়ে আসতে বললে তিনি পালিয়ে যান। যেহেতু আমরা প্রথমে পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীর স্বীকারোক্তি পেয়েছি সেজন্য পরবর্তীতে ম্যানেজার আসলে আমি পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীকে নিয়ে আসতে বললে তিনি তাকে লোক মারফতে খুঁজে নিয়ে আসেন। তখন ঐ কর্মচারী তখন আমাকে আপা বলে সম্বোধন করে মাফ চান। আমি তখন বলেছি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আমি জেল দিচ্ছি না, তবে বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে কোম্পানিকে জরিমানা যেটা করা হয়েছে সেটা পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তীতে কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার সে টাকা পরিশোধও করেছেন এবং আমরা সেটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এই বিষয়টাকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে 'আপা' শব্দটাকে হাইলাইট করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। হয়তো সেটা ভাইরাল করার জন্য করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমাকে যে কেউ আপা ডাকতেই পারে, অনেকেই আপা, খালা ডাকে। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী, আপা ডাক নিয়ে জরিমানা করার কোনো সুযোগ নেই, আপা ডাক কোন দণ্ডনীয় নয়, এটা আইনেও নেই। 

এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংবাদে বলা হয়েছে আমি জরিমানা করেছি কর্মচারীকে কিন্তু বিষয় এমন নয় আমি জরিমানা কোম্পানিকেই করেছি, কোম্পানির পক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন তারা এবং ম্যানেজার কোম্পানির পক্ষে টাকা পরিশোধ করেছেন। যেহেতু এইটা একটা কোম্পানি স্বাক্ষরতো কোম্পানির কেউ না কেউ করতে হবে। এখন কোম্পানি সে কর্মচারীকে কি করবে সেটাতো আমাদের বিষয় নয়।

এদিকে আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি থাকায় জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, ঘটনাটি ভুল বুঝাবুঝির কারণে আপা ডাকায় নয় ঘটনাটি পণ্যের মান সংক্রান্ত বিষয়ে ছিল যার জন্য তিনি জরিমানা করেছেন। 


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, ওসমানীনগর, ইউএনও, জরিমানা, বনফুল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ