লোডশেডিংয়ে মৌলভীবাজারে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:০৬ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে চা উৎপাদনে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার ট্রাফ হাউজে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা। এতে জেলার প্রতিটি বাগানের আর্থিক ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে দৈনিক ২ থেকে ৩ লাখ টাকা।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ৯ ঘণ্টা কারখানা সচল রাখতে ভরসা করতে হচ্ছে জেনারেটরের ওপর, যাতে ব্যয় হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি তেল। এতে করে জেলার ৯৩টি চা বাগানে উৎপাদনের ভরা মৌসুমেই নেমে এসেছে সংকট। এক দিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্য দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চায়ের গুণগত মান এমনটাই আশঙ্কা বাগান-সংশ্লিষ্টদের।
রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার একাধিক চা বাগান পরিদর্শনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে কাঁচা চা পাতা পড়ে থাকছে ট্রাফ হাউজে। লোডশেডিংয়ের কারণে যথাসময়ে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ পাতা ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। বাগান-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত চা শিল্পে বড় ধরনের ধস নামতে পারে, যাতে লোকসানের মুখে পড়বেন মালিকপক্ষ।
রাজনগরের ইটা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক আকাশ হোসেন বলেন, একবার বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প প্রযুক্তিতে কারখানা চালু করতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে সময়ের অপচয় হয়। আবার পাতার গুণগত মানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যন্ত্রপাতিরও অনেক ক্ষতি হয়। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এসময় কারখানা চালু রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হয়।
একই বাগানের প্রধান কারখানা করণিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে কারখানা অচল হয়ে পড়ে। এসময় ট্রাফ হাউজে রাখা কাঁচাপাতার ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতিদিন মৌলভীবাজারের বাগানগুলোতে হাজার হাজার কেজি পাতা নষ্ট হচ্ছে। এগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
রাজনগর উপজেলার করিমপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, সবুজ চা হচ্ছে শিল্পের স্পর্শকাতর উপকরণ। একে যথাযথ সময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যায়ে নিতে না পারলে ক্ষতির শঙ্কা বেড়ে যায়। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়লে খরচ বাড়ে, সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে পাতার মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনই ভুগতে হচ্ছে। এতে চা পাতার অনেক ক্ষতি হয়। প্রতিদিনই আমাদের চা পাতা নষ্ট হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তবে কম সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
চা বাগান, বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচা চা পাতা, চা শিল্প, উৎপাদন ব্যয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি