
সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের কিশোরী গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা এড়াতে লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়েই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ছিল। এই সময়ের মধ্যেই রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলায় ঘটে হত্যাকাণ্ডটি। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও এবং বাসাটিতে নিজস্ব ক্যামেরা থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো ফুটেজ ধরা পড়েনি।
সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তাঁরা বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানান। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি, বাড়িতে দরজা বন্ধ এবং নিচ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে যায়। দরজা খুলে তারা আমাদের জানায়। ক্রাইমসিন দোতলা পর্যবেক্ষণ করছি। পিবিআই ও সিআইডির যারা ক্রাইমসিন নিয়ে কাজ করেন তাঁরাও চলে এসেছেন। একটা স্পেশাল টিম গঠন করে দিয়েছি তদন্ত করার জন্য।
তিনি আরও জানান, ভাড়াটিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী সকালের দিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা গিয়েছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি সকালেই ঘটেছে।
নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং নগরীর জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। পুলিশ জানায়, একটি কক্ষ থেকে স্ত্রী ও গৃহকর্মীর এবং অন্য একটি কক্ষ থেকে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাত্তার দম্পতি মিতালী আবাসিক এলাকার প্রথম বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় ব্যবসায়ী হলেও এলাকায় আওয়ামী লীগের একজন পুরোনো কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যদিও দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহল্লার নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্যমতে বাসাটিতে দুজন গৃহকর্মী থাকতেন, যাদের মধ্যে অপরজনের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাসার গাড়িচালকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে নিচতলার এক ভাড়াটের সঙ্গে বাড়ির মালিকের সমস্যা চলছিল। ছয় মাস ধরে ওই ভাড়াটেকে বিদায় করতে না পারলেও গত মাসে অবশেষে তিনি বাসা ছেড়ে যান। ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে নিহত দম্পতির ভাগ্নে মুন্না মিয়া বলেন, জায়গা-জমির ব্যবসা করা ওই ভাড়াটেকে মহল্লার কমিটি বসে বিদায় করেছে। মামা নিজেই মহল্লার কাছে বিচারপ্রার্থী হয়ে বলেছিলেন, আমার বাসা ছাড়ে না, ভাড়াও ঠিকমতো দেয় না।
তদন্তে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, এলাকার লোডশেডিংয়ের ওপর নজর রাখা দুর্বৃত্তরাই পরিকল্পিতভাবে এই সুযোগ নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিনে এখন পর্যন্ত হত্যায় ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম। তিনজনকে কোন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
শেয়ার করুনঃ
অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন
হত্যা, গলাকাটা, গৃহকর্মী, লোডশেডিং, রায়নগর, সিসি ক্যামেরা


