০১ আগস্ট ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

সিলেটে জামায়াতের গণমিছিল

‘নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১ আগস্ট, ২০২৬ ৮:১৯ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘জুলাইয়ের শহীদদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং দেশকে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে।’


শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল কথায় কথায় গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নিতে চাচ্ছে। অথচ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঠেকাতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল এই বিপ্লবের পেছনে কারা জড়িত। কিন্তু আমরা ফ্যাসিস্টের কাছে মাথা নত করিনি। সর্বশক্তি নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছি। যার ফলে দেড় হাজার শহীদ ও ৩০ হাজারের বেশী আহত জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরেও জাতি কাংখিত পরিবর্তন দেখতে পারছেনা। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে জাতির সাথে প্রতারণা করে ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্খাকে গলাটিপে হত্যা করেছে।’ 


জুবায়ের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেনি। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে জনগণের অধিকার বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। বিএনপি অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের সময়ে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে ঐকব্যদ্ধ হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গিকার করেছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় গিয়ে সেই দাবি থেকে সরে গিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে হাটঁছে। সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারকে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। এই দেশে নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়েছে। তারা আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করেছে। শত শত নেতাকর্মীকে খুন-গুম করেছে। লাখো লাখো নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে। কিন্তু জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। কারণ জামায়াত একটি বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।


তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে কোন টালবাহানা মেনে নেয়া হবেনা। শীঘ্রই ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে নতুন কর্মসুচী আসছে। সকল কর্মসুচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সিলেটবাসীকে এগিয়ে আাসার আহ্বান জানান তিনি।


সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।


সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী, ফ্যাসিবাদ, গণঅভ্যুত্থান, জুলাই গণহত্যা, গণভোট, বিচার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ