২১ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

বাদামবাগিচায় সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে, ক্ষুব্ধ সিসিক প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামবাগিচা এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখতে পেয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। পরিদর্শনে তিনি লক্ষ করেন, এলাকার বহু ভবন বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে গড়ে তোলা হয়েছে, আর অসংখ্য বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে ড্রেন ও ছড়ায়। এই পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ ও ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার কারণে নগরে জলাবদ্ধতা ও দূষণের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। তার মতে, বাড়িঘর তৈরির সময় বিল্ডিং কোড অনুসরণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।

এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি কয়েকটি স্পষ্ট আহ্বান জানান। তার ভাষ্যমতে, সেপটিক ট্যাংকের লাইন কোনোভাবেই সরাসরি ড্রেন বা ছড়ার সঙ্গে জোড়া দেওয়া উচিত নয়—এতে ড্রেন অল্প সময়ে ভরাট হয়ে পড়ে, দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণের সময় সরকারি বিধি মেনে যথেষ্ট জায়গা রাখতে হবে, যাতে পানি নিষ্কাশনে কোনো বাধা না তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সামান্য সচেতনতাই আমাদের প্রিয় নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগর গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ছড়া ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। সবার সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

আগামী তিন মাসের মধ্যে ড্রেন-ছড়ার সঙ্গে সংযুক্ত সব অবৈধ সেপটিক লাইন বিচ্ছিন্ন করে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সিসিক প্রশাসক। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নির্দেশনা যারা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনের দিনই বাদামবাগিচা এলাকায় সিসিকের উদ্যোগে পরিচালিত হয় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব। সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে সরাসরি ড্রেন ও ছড়ায় ফেলার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্বজিত দেব জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও ছড়ার সঙ্গে বেআইনিভাবে যুক্ত সেপটিক ট্যাংকের লাইন চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সামনের দিনগুলোতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, সিটি করপোরেশন, প্রশাসক, কাইয়ুম চৌধুরী, সিসিক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ