০৫ জুলাই ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

হবিগঞ্জে জ্বালানি তেলের ৭০ শতাংশই বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে

প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

প্রকাশঃ ৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন

ছবিঃ জ্বালানি তেল।

হবিগঞ্জে বৈধ ফিলিং স্টেশনের বাইরে অলিগলি ও সড়কের পাশে প্রকাশ্যে চলছে জ্বালানি তেলের অবৈধ বেচাকেনা। অভিযোগ রয়েছে, জেলার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই এখন কালোবাজারের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় একদিকে যানবাহনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বৈধ ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে বিক্রি হওয়া তেলের পরিমাণ এর তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬৫ হাজার লিটার অকটেন এবং ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে।

 

জেলার আনোয়ারপুর বাইপাস, লাখাই সড়ক, ফায়ার সার্ভিস সড়ক, উমেদনগর, নবীগঞ্জ সড়ক ও বানিয়াচং সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বোতল ও জারিকেনে করে রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে দেখা যায়।

 

হবিগঞ্জ সদরের বাসিন্দা মারজান আহমেদের অভিজ্ঞতা এমনই। স্থানীয় একটি দোকান থেকে তেল ভরানোর পর তার মোটরসাইকেলে দেখা দেয় যান্ত্রিক গোলযোগ। মেকানিকের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়, নিম্নমানের তেলের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইনজেক্টর ও ফুয়েল পাম্প।

 

দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করা ছামির আহমদ বলেন, ভেজাল বা নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ভেতরে কার্বন জমে দ্রুত। এতে ইনজেক্টর-ফুয়েল পাম্পের মতো যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে যায়, তেল খরচও বেড়ে যায়, আর ইঞ্জিনের আয়ুও কমে আসে। তিনি বলেন, এমন সমস্যা নিয়ে গ্রাহক প্রায় প্রতিদিনই তাঁর কাছে আসেন।

 

হবিগঞ্জ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর তথ্যমতে, জেলার উনিশটি বৈধ ফিলিং স্টেশন মিলিয়ে বছরে প্রায় পনেরো কোটি টাকার তেল বিক্রি হয়, যা থেকে সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা। তাঁর মতে, সমপরিমাণ তেল যদি অবৈধভাবে বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে বছরে অর্ধকোটি টাকার বেশি রাজস্ব হাতছাড়া হচ্ছে সরকারের।

 

নিয়ম অনুযায়ী, জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদনসহ নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু জেলার বেশিরভাগ খুচরা দোকানেই এসব শর্তের বালাই নেই। কোনোটির লাইসেন্সই নেই, আবার কোনোটির অনুমতির মেয়াদ ফুরিয়েছে বহু আগেই।

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ জানান, নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে এক বিক্রেতাকে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে তাঁর ভাষ্য, বিক্ষিপ্তভাবে চালানো অভিযানে পুরো অবৈধ বাজারকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

হবিগঞ্জ, জ্বালানি তেল, কালোবাজার, ভোক্তা অধিকার, ফিলিং স্টেশন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ