০৫ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

সকাল থেকেই চলছে লোডশেডিং, বিকেলে ঘোষণা দিল বিউবো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪৩ অপরাহ্ন


তীব্র গরমের মধ্যেই শনিবার সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছিল লোডশেডিং। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই মানুষজন এমন দুর্ভোগ পোহালেও বিকেল তিনটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে তিনটার পরে বিউবোর সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বিকেল তিনটা থেকে সাময়িকভাবে লোডশেডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলে লোডশেডিং প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। বিউবোর ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে বদরুল আলম নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনারা ঘোষণা দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিন। আমরাও সবকিছু বাদ দিয়ে আদি মানুষের মত জংগলে চলে যাব।’

মুক্তা হক নামে একজন লিখেন, ‘কারেন্ট থাকে কোন সময়। কারেন্ট থাকে নাতে আর নোটিশ দেওয়ার কাম কিতা।’

মুহাইমিন খান লিখেন, ‘তোমারা কারেন্ট নেউ না, এমন একটা দিন দেখাউ। প্রতিদিন কারেন্ট নেউ, তোমরা একটু সময় এর লাগি কারেন্ট নেউ না, লং টাইম কারেন্ট নিয়া রাখ, কোনো নোটিশ ছাড়া, তোমরা গাইল দিলে ও কম অয় না, তোমারারে…. ঠিক অইতায় না।’

পংকজ শর্মা নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনারা তো প্রত্যেক শনিবারের সকাল ৭টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজের অজুহাত থাকেই। সেটা বিগত কয়েকমাস থেকে দেখে আসছি।’

এর আগে সকাল থেকে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

এদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের দিনে সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। শনিবার বিভাগে সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ১৬০ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। এর মধ্যে শুধু সিলেট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে ১২০ মেগাওয়াট।

বিউবোর সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, গত দুই-তিন দিন লোডশেডিং ছিল না। তবে শনিবার থেকে আবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে, কারণ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, সেটি নির্ভর করছে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ কেন্দ্রের (এনএলডিসি) ওপর। তারা যতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎই বিভিন্ন এলাকায় বণ্টন করা হচ্ছে।

এদিকে তীব্র গরমের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমও অব্যাহত থাকতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, শনিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

তিনি আরও বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ