রেকর্ড তাপমাত্রার পর সিলেটে স্বস্তির বৃষ্টি
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৪ জুলাই, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ন
কড়া রোদ আর অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে সিলেট অঞ্চলজুড়ে। সকাল গড়াতেই চড়া রোদ ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন না থাকলে ঘর থেকে বের হতে অনীহা দেখা গেছে অনেকের মধ্যেই, যার প্রভাব পড়েছে নগরীর সড়কেও অন্য দিনের তুলনায় সেখানে মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম।
শনিবার (৪ জুলাই) সিলেট অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারের চেয়ে পারদ কিছুটা নামলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরম অনুভূত হয়েছে আরও তীব্রভাবে। ফলে দিনের শুরু থেকেই আবহাওয়া ছিল অস্বস্তিকর।
এদিকে তীব্র রোদ-গরমে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন খোলা আকাশের নিচে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষেরা। নগরীর এক রিকশাচালক শাহীন মিয়া বলেন, সকালের দিকে কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। মাথায় ভেজা গামছা বেঁধে কাজ করছি। গরমের কারণে যাত্রীও কম, আয়ও আগের তুলনায় কমে গেছে।
একই দুর্ভোগের কথা জানান দিনমজুর নুরুল ইসলামও। তিনি বলেন, দুপুরের রোদে কাজ করা এখন খুবই কষ্টকর। মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর দুর্বল লাগে। তারপরও পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ বন্ধ করার সুযোগ নেই।
ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও। নগরী আম্বরখানা এলাকায় ফল বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ কম বের হচ্ছে। ফলে বিক্রিও কমে গেছে। সারাদিন রোদের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টের।
অন্যদিকে গরমের এই দাপটে খেটে খাওয়া মানুষদের এই দুর্ভোগ থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত এই তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিলেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
সিলেট, তাপমাত্রা, আবহাওয়া, গরম