২৭ জুন ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

প্রত্যয়নপত্র ও কমিটির আড়ালে সুনামগঞ্জে ইয়াবার কারবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৭ জুন, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন


সুনামগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। নির্বিঘ্নে কারবার চালিয়ে যেতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মাদক কারবারিরা। কেউ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে 'মাদক কারবারি নয়' মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন, আবার কেউ মাদকপ্রতিরোধ কমিটিতে পদ বাগিয়ে নিয়ে আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াবার ব্যবসা। সম্প্রতি এমন দুই কারবারির কৌশল উন্মোচিত হওয়ায় জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের চানফর আলী ওরফে ফকির মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে 'মাদক কারবারি নয়' মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সেটি বাঁধাই করে সর্বদা সঙ্গে রাখতেন তিনি। অথচ কিছুদিন আগেই তার আস্তানায় ইয়াবা সেবন ও বিক্রির জন্য মাদক আনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সদর থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কারবারিদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি জানতে পেরে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উল হক গত ১৪ জুন ওই প্রত্যয়নপত্র বাতিল করেন এবং পরদিন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এই প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করা হলে রেজাউলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাতিলের অনুলিপি সদর থানা পুলিশ, ডিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‍্যাব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ২০ জুন মোহনপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে সদর থানার ওসি রতন শেখ উপস্থিত হয়ে রেজাউলসহ সব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

একই সময়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ছাতারকোণা গ্রামের নাজমুল হাসান হিমেল ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাহিরপুর সীমান্তের লাউড়েরগড় এলাকায় আটক হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে যুক্ত থাকলেও পারিবারিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না। কৌশলে সে ধনপুর ইউনিয়ন মাদকপ্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদও বাগিয়ে নিয়েছিল। গত ১৭ জুন আটকের পর তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও মোহনপুর মাদকপ্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নূরুল আমিন বলেন, আমরা গ্রামের লোকজন মাদকের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ ও মাদক কারবারিদের তালিকা করার পর রেজাউলের নেতৃত্বে কারবারিরা মাদক দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। আমাদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে রেজাউল দীর্ঘদিন গোপনে মাদক কারবার করেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর আমিসহ সালিশকারী ও প্রতিবাদকারীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবগত করেছি।

সুনামগঞ্জ মাদকপ্রতিরোধ কমিটির নেতা সমাজসেবী আমীর হোসেন বলেন, আমরা সুনামগঞ্জ শহরকে মাদকমুক্ত করতে মাঠে নেমেছি। তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছি। তারুণ্যের নেতৃত্বে এটি সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, আমার থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আমরা সামাজিক জাগরণের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের আস্তানা ভেঙে দিচ্ছি। মোহনপুরের সমাবেশে রেজাউলকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ শুরু হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে কারবারিরা কৌশল নিয়ে মাদক কারবার করছে। সম্প্রতি মোহনপুর ও বিশ্বম্ভরপুরে দুই কারবারির কৌশল উন্মোচন হয়েছে। সামাজিক জাগরণের মাধ্যমেই মাদক প্রতিরোধ সম্ভব।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, মাদক, ইয়াবা, প্রশাসন, গ্রামাঞ্চল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ