২৫ জুন ২০২৬

অপরাধ-বিচার / বিচার

ব্রিটিশ হাইকমিশনার থেকে সুরঞ্জিত সেন হত্যাচেষ্টা মামলা, কে এই নাঈম?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৫ জুন, ২০২৬ ৩:৫১ অপরাহ্ন


দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের আলোচিত একাধিক বোমা হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে সৈয়দ নাইম আহমদের। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টার মামলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।


বৃহস্পতিবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবেক হুইপ জি কে গৌছসহ অন্য নয়জনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।


কে এই নাঈম?
আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, সৈয়দ নাইম আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সেয়দপুর এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন মূলত বিভিন্ন বোমা হামলা ও জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি হিসেবে। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘ সময় কারাভোগও করেছেন।


সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত পর্যায়ে সৈয়দ নাইম আহমদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর পরিবার দাবি করে আসছে, নির্যাতনের মাধ্যমে ওই জবানবন্দি আদায় করা হয়েছিল।


একাধিক আলোচিত মামলার আসামি
সৈয়দ নাইম আহমদের নাম এর আগে দেশের কয়েকটি বহুল আলোচিত মামলায় উঠে আসে। এর মধ্যে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলাও রয়েছে। যদিও সেই মামলায় তিনি পরে খালাস পান।


এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত সমাবেশে বোমা হামলা, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর হামলা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলাতেও তাঁর নাম ছিল আসামির তালিকায়।


কী ঘটেছিল দিরাইয়ের সেই হামলায়?
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সমাবেশ চলাকালে গ্রেনেড হামলা হলে যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ২৯ জন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।


ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।


পরিবারের দাবি, ‘ফাঁসানো হয়েছে’
রায় ঘোষণার পর সৈয়দ নাইম আহমদের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ভাইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে আজিজ নাঈমের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং চাপের মুখে তাঁর কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল।  পরিবারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও জানানো হয়েছে।


দুই দশক ধরে নানা আলোচিত মামলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সৈয়দ নাইম আহমদের নাম আবারও আলোচনায় এসেছে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার এই রায়ের মধ্য দিয়েন।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সৈয়দ নাইম আহমদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা, সুরঞ্জিত সেন গ্রেনেড হামলা, সৈয়দ নাইম আহমদ মৃত্যুদণ্ড, দিরাই গ্রেনেড হামলা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ