মহানবীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, তাহিরপুরে পুলিশ হেফাজতে যুবক
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৩ জুন, ২০২৬ ৭:৫২ অপরাহ্ন
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে কয়েস লোদী বলেন, ফেসবুকের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
কয়েস লোদী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। পাশাপাশি যেসব আইডি থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর লিংক পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠিয়েছি।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েস লোদীর বক্তব্যের সমালোচনাও করা হয়।
মাজারের দানবাক্স জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করার পর প্রতিক্রিয়ায় কয়েস লোদী বলেছিলেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি করা হলে তা আরও সম্মানজনক হতো।
এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। হত্যার হুমকির ঘটনার সঙ্গে ওই বিতর্কের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েস লোদী বলেন, আমি জানি না কী কারণে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে আমাকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেন বারবার আমাকেই টার্গেট করা হচ্ছে, সেটাও বুঝতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, ডিসি নিয়োগ বা বদলির বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। অথচ এসব ঘটনার জন্যও আমাকে দায়ী করা হচ্ছে।
মাজার-সংক্রান্ত নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমি শুধু বলেছি, মাজার কর্তৃপক্ষও স্বচ্ছতার পক্ষে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজটি করা যেত। আমি ডিসি হলে এভাবেই করতাম।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের তিনটি ডেগ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় মাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। এরই মধ্যে গত রোববার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাঁর প্রত্যাহারের প্রতিবাদে রোববার ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়।
সোমবার দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্সে জমা অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হয়।
সিলেট, মহানগর বিএনপি, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাজার, হুমকি, অভিযোগ, থানা