রাতে মাঠে নামবে রোনালদোর পর্তুগাল
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ন
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে ব্যাট হাতে কঠিন এক দিন কাটাল বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের সামনে বারবার পথ হারিয়েছে স্বাগতিকরা। বিশেষ করে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন শেখ মেহেদী হাসান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জাম্পা ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। তবে তৃতীয় ওভারে স্পেনসার জনসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। ৯ বলে ১০ রান করেন তিনি।
এক প্রান্তে সাইফ কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। তিনটি চারের সাহায্যে ১৪ বলে ২০ রান করা এই ওপেনার ম্যাট রেনশর শিকার হয়ে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
লিটন দাসের চোটে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া তাওহিদ হৃদয় ইনিংসের শুরুতেই একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জাম্পার গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে ৫ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপর সৌম্য সরকার ও পারভেজ হোসেন ইমন ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করলেও কেউই বড় জুটি গড়তে পারেননি। সৌম্য ১৮ বলে ১৭ রান করে জাম্পার বলে ক্যাচ দেন। ইমন ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জুয়েল ডেভিসের শিকার হয়ে।
মাঝের সারিতে শামীম পাটোয়ারী ও অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইনের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত অবদান মেলেনি। সাকলাইন করেন ১০ রান, আর শামীম ব্যর্থ হন দ্রুতই। ফলে ৮৬ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
নিম্নক্রমে রিশাদ হোসেনও সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বল খেলে মাত্র ৩ রান করেন তিনি। শরিফুল ইসলাম একটি ছক্কা মারলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও শেষ দিকে লড়াই করেন শেখ মেহেদী। চাপের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোরকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ১২ বলে ২৩ রান যোগ করেন মেহেদী। ২২ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ছিল কয়েকটি কার্যকর বাউন্ডারি, যা বাংলাদেশের সংগ্রহকে ১৩১ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে জাম্পা ছিলেন সবচেয়ে সফল। তার নিয়ন্ত্রিত লেগ স্পিনের সামনে বাংলাদেশি ব্যাটাররা বারবার ভুল করেছেন। অন্য বোলাররাও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ দেননি।
ফলে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে এখন বাংলাদেশের ভরসা বোলারদের ওপরই। তুলনামূলক ছোট এই লক্ষ্য রক্ষায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং করতে হবে স্বাগতিকদের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল, অ্যাডাম জাম্পা, টি-টোয়েন্টি, চট্টগ্রাম