নগরীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ‘বলাৎকার’, বৃদ্ধসহ আটক ২
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৫ জুন, ২০২৬ ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
হবিগঞ্জ তালাকের জেরে রুবিনা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর উপর এসিড নিক্ষেপ করার অভিযোগ ওঠেছে তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১০ টার দিকে শহরতলীর বড় বহুলায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রুবিনা আক্তার শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে প্রান কোম্পানীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রুবিনার সাবেক স্বামী উজ্জ্বল মিয়া (২৮) পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই উপজেলার পূর্ব ভাদৈ গ্রামের উজ্জল মিয়ার সঙ্গে দুই বছর আগে বিয়ে হয় রুবিনার। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে ছয়মাস আগে স্বামী উজ্জলকে তালাক দেন রুবিনা। পরে রুবিনা অলিপুরে প্রাণ কোম্পানীতে শ্রমিকের কাজে যোগ দেন। এতে উজ্জল তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময় প্রাণ কোম্পানীতে আসা-যাওয়ার পথে সে রুবিনাকে উত্যক্ত করে আসছিল।
বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে রুবিনা প্রাণ কোম্পানী থেকে বড় বহুলায় বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা উজ্জল তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে এবং ছুরিকাঘাত করে। এ সময় রুবিনার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে উজ্জল পালিয়ে যায়।
তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুন্সি, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. জাহিদুল হকসহ পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করেন।
রুবিনার পিতা বারিক মিয়া বলেন, ‘প্রায় ছয়মাস আগে আমার মেয়ের সাথে জামাইর তালাক হয়েছে। এরপরও সে তার পিছু ছাড়েনি। তাকে প্রায়ই একা পেলে উত্যক্ত করতো। আমার মেয়ের মুখে এসিড মেরে সে পালিয়ে গেছে। আমি সঠিক বিচার চাই।’
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে আমরা হাসপাতালে গিয়ে আহত ওই নারীকে দেখে এসেছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘এসিডে আক্রান্ত এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শহীদুল হক মুন্সি বলেন, ‘আমরা ভিকটিমকে দেখেছি। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। অপরাধিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’
এসিড নিক্ষেপ, নারী, হবিগঞ্জ, সাবেক স্বামী, তালাক