০২ জুন ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

তিন মাস ধরে নৌকায় ৫০০ টন সার, উঠছে পাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২ জুন, ২০২৬ ১২:১২ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউনের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫০০ টন ডিএপি সার তিন মাস ধরে সুরমা নদীতে ভাসমান একটি বাল্কহেড নৌকায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন নৌকায় পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সারের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সার খালাসে অস্বাভাবিক বিলম্বকে ঘিরে উঠেছে পাচার ও অনিয়মের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ডেইলি ট্রেডিং নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ৫০০ টন ডিএপি সার বাল্কহেড নৌকাযোগে সুনামগঞ্জ বিএডিসির সার গোডাউনের উদ্দেশে পাঠায়। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে নৌকাটি সুনামগঞ্জ ঘাটে পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত সারগুলো গুদামে উত্তোলন করা হয়নি। অথচ বিএডিসির নিয়োগকৃত শ্রমিক থাকার পরও কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই সার খালাস কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রতিনিধি, বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা, নিয়োগকৃত কিছু ডিলার এবং শ্রমিক নেতাদের একটি চক্র যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির সার গুদামে না তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এভাবে সরকারের বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে বিভিন্ন সময়ে ডিলারদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে নৌকা থেকেই সার অন্য নৌকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সেই সার আবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেই ফিরে যায়। এতে প্রতিটি চালান থেকে লাখ লাখ টাকা অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ চক্রে ডিলার, শ্রমিক প্রতিনিধি, কিছু কৃষি কর্মকর্তা এবং গুদামসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ মে সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর এলাকায় বিএডিসির সার গুদামে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল। অভিযানে ৩২৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সার অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল।

অভিযানের পর ঘটনাটি নিয়ে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন সুনামগঞ্জ বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম। ১১ মে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি গুদাম রক্ষক ও শ্রমিক সরদারের সংশ্লিষ্টতার বিষয় উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কয়েকজন ডিলারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।

সূত্র জানিয়েছে, সার পাচারের ঘটনায় জামালগঞ্জের এক ডিলারের নাম সামনে এসেছে। এছাড়া তাহিরপুর ও ধর্মপাশা এলাকার আরও কয়েকজন ডিলারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, ডিলারদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে গুদামে না তুলে সরাসরি অন্যত্র সার সরিয়ে নেওয়া হতো।

এদিকে ঘটনাটি জানার পর বিএডিসির সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক (সার) মো. হুমায়ুন কবির গত ১৩ মে সুনামগঞ্জে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। তিনি বিভিন্ন ডিলারের গুদামে মজুদ থাকা সার সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ডিলাররা ওই সার নিজেদের নয় বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, গুদামে সার না থাকলেও ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন হয়েছে বলে আগমন (এরাইভাল) প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সুনামগঞ্জ বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসের সারের বরাদ্দ উত্তোলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ থেকে আমাদের কাছে এরাইভাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানে সার মজুদের বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিন মাস ধরে ঘাটে পড়ে থাকা ৫০০ টন সার এখনও উত্তোলন করা হয়নি। নিয়োগকৃত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, সার, বিএডিসি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ