দুই বছর ধরে ‘অভিভাবকহীন’ সিলেট চেম্বার, নির্বাচন কবে
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ৭ মে, ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংকট কাটাতে গতবছরের ১ নভেম্বর নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণের মাত্র ৫দিন আগে স্থগিত করা হয় নির্বাচন।
এরপর উচ্চ আদালতের আরেকটি আদেশে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম চললেও অনেকটাই স্থবির চেম্বারের কার্যক্রম— এমনটাই দাবি সিলেটের ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ প্রায় দুইবছর থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আইনি জটিলতা নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বাচনের দিকেও এগুচ্ছে না চেম্বার প্রশাসন— এমনটাই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এ অবস্থা চলতে থাকলে সিলেটের ব্যবসা বাণিজ্যে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ভেঙে পড়ে সিলেট চেম্বার। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফয়েজ হাসান ফেরদৌসের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যক্রম চললেও সদস্যদের দাবির মুখে সভাপতি ও চার পরিচালক পদত্যাগ করেন। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চেম্বারের কার্যক্রম।
পরে সকল সংকট কাটিয়ে এক বছর পর গত বছরের ৪ আগস্ট নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। তফসীল অনুযায়ী ১ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে ‘সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ ও ‘সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম’এই দুই প্যানেল থেকে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
কিন্তু ভোট গ্রহণের ঠিক ৫দিন আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন–১ শাখা থেকে জারি করা চিঠির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরপর ২৭ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের একটি প্যানেল নির্বাচনের স্থগিতাদেশের প্রত্যাহার চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার প্রেক্ষিতে ২৯ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নির্বাচন দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের কপি ও বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের পরবর্তী আদেশ না আসায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, ‘পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রায়ই বিভিন্ন আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে তারা সরাসরি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারকেরা তাদের সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন না।’
নির্বাচন না হওয়ার পেছনে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তা কার্যকর করছে না। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলে জেলা প্রশাসকের কথা আর জেলা প্রশাসক বলেন মন্ত্রণালয়ের কথা। এই অস্পষ্টতার কারণে কোনো দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ব্যবসায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। একটি সংগঠনের অবিভাবক না থাকলে এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। তাই আমাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন করা হোক।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক পিনকি সাহা বলেন, ‘কিছু দাপ্তরিক জটিলতা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নির্দেশনা না আসায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।’
সিলেট, ব্যবসা-বাণিজ্য, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ব্যবসায়ী সংগঠন