০১ মে ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

কাজ থাকলে আয়, না থাকলে ধার: সিলেট নগরীর শ্রমিকদের বাস্তবতা

মোসাইদ রাহাত

প্রকাশঃ ১ মে, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ন


সকাল থেকে আকাশ মেঘলা ছিল। দুপুরের পর বৃষ্টি নামতেই সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকায় রিকশার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা কমে আসে। রিকশাচালক আব্দুল করিম (৪২) তখন ফুটপাতে বসে ছিলেন। হাতে এক কাপ চা, চোখে অনিশ্চয়তার ছাপ। বৃষ্টি হইলে যাত্রী কমে যায়। আজকে এখন পর্যন্ত ৩০০ টাকাও আয় হয় নাই, বললেন তিনি।

আজ ১ মে, মহান মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার দাবির এই দিনে শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের বড় একটি অংশ রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার, দিনমজুর রয়ে যান আলোচনার বাইরে। নির্দিষ্ট মজুরি নেই, কাজের নিশ্চয়তা নেই, সামাজিক নিরাপত্তাও সীমিত।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দিনভিত্তিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই শ্রমিকদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে আবর্তিত। কাজ থাকলে আয়, না থাকলে ধার এটাই তাদের প্রতিদিনের হিসাব।

রিকশাচালক আব্দুল করিম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে ২৫০ টাকা চলে যায় রিকশা মালিকের কাছে। বাকি টাকায় সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বাচ্চার পড়ালেখা, ঘরের ভাড়া সব মিলাইয়া কুলাইতে পারি না।

নগরীর আম্বরাখানা এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে যাত্রীর অপেক্ষায় একজন রিকশা চালক

জিন্দাবাজার এলাকার ফুটপাতের হকার সোহেল মিয়া (৩৫) বলেন, বৃষ্টি হইলে বিক্রি থাকে না। কেউ থামে না। আবার মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযানেও বসতে পারি না।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত এসব শ্রমিকের জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো পরিস্থিতিতেই তারা নিয়মিত সহায়তা পান না।

সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া বলেন, মে দিবসে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য সারা বছর তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। তাদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা জরুরি।

এদিকে নগরের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। বাসাভাড়া, খাদ্যদ্রব্য, চিকিৎসা সবকিছুর দাম বাড়লেও এই শ্রমিকদের আয়ে তেমন পরিবর্তন নেই।

দিনমজুর রহিম উদ্দিন (৫০) বলেন, আগে ৫০০ টাকায় কিছুটা চলতো, এখন ৮০০ টাকাতেও হয় না। কাজও নিয়মিত পাওয়া যায় না।

এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অনেক শ্রমিকই এর বাইরে থেকে যাচ্ছেন। রিকশার হ্যান্ডেলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রুকন আলী বলেন, মে দিবস কী, এইটা আমরা তেমন বুঝি না। আমরা চাই কাজ থাকুক, আয় থাকুক। পরিবারটা যেন ঠিকমতো চলতে পারে এর বেশি কিছু না।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, মে দিবস, শ্রমিক, রিকশা চালক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ