নলুয়ার হাওরে বুকপানিতে নেমে ধান বাঁচানোর লড়াইয়ে কৃষকরা
কৃষি
প্রকাশঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বোরো ধান তলিয়ে গেছে। পানির মধ্যে নেমে নৌকা ও হাতে ধান তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। তবে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। এতে করে জমি থেকে উত্তোলন করা কাটা ধানও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
কৃষকরা জানান, হাওরের প্রায় অর্ধেক জমির ফসল এখন পানির নিচে। এতে কৃষক পরিবারগুলো চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে পাকা ধান রক্ষায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ কাটার দাবি জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
উপজেলার বেতাউকা গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘গতকাল থেকে এক মাস আগে নলুয়া হাওরে জলাবদ্ধতা থেকে নিজেদের বোরো জমি রক্ষায় আমরা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করি। তিনি কোন প্রতীকার করেননি। এখন জলাবদ্ধতার ফলে সব ধান পানির তলে (তলিয়ে গেছে)।
কৃষকের সন্তান সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী সুমন দাস বলেন, বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধান কাটার জন্য সিলেট থেকে বাড়িতে আসি। বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। জমির ওপর দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলছে। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পানি নিস্কাশনে স্লুইসগেট গুলো কোন কাজে লাগেনি। এছাড়াও শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ফসল রক্ষা করা যায়নি। পাউবো ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা দায়ী তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্ববায়ক শামীম আহমেদ জানান, এ ফসল ডুবির দায় পাউবো এড়াতে পারে না। অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ ও অকেজো স্লুইসগেট জলাবদ্ধতায় ফসল ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ ফসল এখন পানির নীচে। কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে হাওরের ৫০ ভাগ ফসল জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, এবার ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। ৫৫ ভাগ ফসল উত্তোলন করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটায় দূর দূরান্ত থেকে কৃষি শ্রমিক আসা কমে গেছে তাই শ্রমিক সংকটে অনেকে পাকা ফসল উত্তোলন করতে পারেননি। তাই স্বেচ্ছাসেবকদের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, নদীতে পানি নেই ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ এখনো অক্ষত আছে। অতিবৃষ্টিতে হাওরের নিচু এলাকার ফসল তলিয়েছে। আমরা প্রতিদিন হাওরে যাচ্ছি এবং কৃষকদের সহায়তার চেষ্টা করছি। সরকারি সকল ভবনের ছাদে ধান শুকানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জলাবদ্ধতা সংকট নিরসনে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলে জানান।
নলুয়ার হাওর, জগন্নাথপুর, বোরো ধান, কৃষক সংকট, সুনামগঞ্জ হাওর