দিরাইয়ে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ৬০০ হেক্টর জমির পাকা ধান
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৪৭ অপরাহ্ন
দিনভর টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। একদিকে পানিতে ডুবে যাচ্ছে জমির ফসল, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কাটা ও মাড়াইকৃত ধান।
কৃষকরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় হাওরের নিচু জমিতে হারবেস্টার নামানো যাচ্ছে না। ফলে এসব জমির ধান কাটায় নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষি শ্রমিকের উপর। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় দৈনিক এক হাজার টাকা মজুরীতেও মিলছেনা ধান কাটার শ্রমিক। এছাড়া বাড়তি খরচে ধান কেটে কোনোরকমে খলায় আনলেও কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে ধানে দুর্গন্ধের পাশাপাশি চারা গজাচ্ছে।
বড়কুল হাওরের কৃষক জগলু মিয়া, জিয়া রহমান ও বজলু মিয়া বলেন, 'এই বছরের মত দুর্গতি গত কয়েক বছরের মধ্যে হয়নি। অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছিনা। বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। আমাদের জমিতে হারবেস্টার মেশিনও আসে না।'
দেখার হাওরের কৃষক হাবিবুর রহমান ও রাজা মিয়া বলেন, বেশি টাকা দিয়ে ধান কেটেও স্বস্তি নেই। রোদ না থাকায় খলায় ধানের স্তুপ পড়ে আছে। রোদের অভাবে ধান নষ্ট হচ্ছে। সব সংকট একসাথে দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমি আবাদ করা হয়েছে। এপর্যন্ত ১০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৫৭ শতাংশ। চলতি বছরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকা।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসের বরাতে উপজেলা কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতসহ বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেসব ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, 'বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে অতিবৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও শুকানো- দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে। আমরা কৃষকদের সতর্ক করেছি এবং যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। উপজেলায় চলতি বছর ১'শ ২২ টি হারবেস্টার ধান কাটায় নিয়োজিত রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহজাহান বলেন, হাওরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি বাজারে মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদে মাইকিং করে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় প্রশাসন কাজ করছে।
শান্তিগঞ্জ হাওর, পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে, টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট, সুনামগঞ্জ কৃষক