২৮ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন

জঙ্গি আতঙ্কে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

জঙ্গি আতঙ্কে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার

 

বাংলাদেশে শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দুই ডজন সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে উগ্রবাদী আদর্শের অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে তারা নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

 

অতীতেও যেকোনো ঝুঁকির সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মিশনগুলো এমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, চরমপন্থার এই উত্থানের ফলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সাথে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার খবর পাকিস্তানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংবেদনশীলতার কারণে ভারতও এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমনে দীর্ঘদিনের স্বার্থের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তিগুলো এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, চরমপন্থী কার্যক্রমের পুনরুত্থান বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক সংহতিও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা এবং সরকারবিরোধী মনোভাব থেকে যদি উগ্রবাদীরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে, তবে তা সমাজের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের চরমপন্থী গোষ্ঠী দেখা যায়। মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় উগ্রবাদী বৌদ্ধ গোষ্ঠীগুলো সংখ্যালঘু দমনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আবার দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ রুখতে ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এদের প্রভাব ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেন, চরমপন্থা দমনে বর্তমান সরকার স্বচ্ছ এবং দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অন্তত চারজন বাংলাদেশি টিটিপি’র হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, আরও অনেক বাংলাদেশি এই গোষ্ঠীতে যোগ দিতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তদন্তের সূত্র ধরে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২০ জনেরও বেশি সদস্যকে আটক করা হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময়কার জেল পালানোর ঘটনার কারণে। তখন কাশিমপুর, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও শেরপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে ৯৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও প্রায় ৭০ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই পলাতকদের বড় অংশ জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এবং হিযবুত তাহরীরের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য।

 

এর বাইরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাগারে থাকা প্রায় ৩০০ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এদের মধ্যে এবিটি নেতা মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানিও রয়েছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জামিনে মুক্তি পাওয়া এবং পলাতক এই ব্যক্তিরা গোপনে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

 

এ এন এম মুনিরুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, এই পলাতক জঙ্গিরা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চরমপন্থা এখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ এবং মতাদর্শ প্রচারের জন্য আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন আসলেও সন্ত্রাসবাদ দমন এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, তুরস্ক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে আসছে।

 

মুনিরুজ্জামান জানান, ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, উন্নত নজরদারি এবং সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা আবারও ফিরিয়ে আনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল বাড়ানো প্রয়োজন। তারা যেন আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং চরমপন্থার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ  


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

উগ্রবাদ বাংলাদেশ, নিরাপত্তা ঝুঁকি, টিটিপি, জঙ্গিবাদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ