১৬ এপ্রিল ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

কৃষকদের আপ্রাণ চেষ্টায় রক্ষা পেল দেখার হাওরের বোরো ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

ছবিঃ নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয়ভাবে তৈরি করা সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের গুজাউনিতে একটি বাঁধ আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়ায় কৃষকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আপাতত রক্ষা হয়েছে। এতে বড়ধরণের ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছেন চার-পাঁচটি গ্রামের কৃষক।

শনিবার (১০ এপ্রিল) ভোররাতের কোন এক সময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর-মদনপুর গ্রামের খালের পাড়ের বাঁধটির একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে হাওরের পূর্ব অংশে আগে থেকেই জলাবদ্ধ থাকা পানি প্রবল বেগে হাওরের পশ্চিম অংশে প্রবেশ করতে শুরু করে। সকালে বিষয়টি দেখতে পেয়ে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর, মদনপুর এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা, কাইক্কারপাড়সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষক জড়ো হয়ে বাঁধটি রক্ষায় কাজ শুরু করে কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় সফল হন। এখন বাঁধটি মজবুত করতে কাজ করছেন তারা।

মদনপুর গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, দেখার হাওরের পানি নিষ্কাশনের পথে সরকারি বাঁধ দেয়ার কারণে হাওরের পূর্ব অংশে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পশ্চিম অংশের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে যাওয়া কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো।

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ‘আমাদের এই হাওরে পানি ঢুকার জন্যে দায়ী শান্তিগঞ্জ উপজেলার আসামপুর-আস্তমার বাধ। সেখানে আরও আগে বাদ কেটে দেওয়ার জন্যে বলেছিলাম, কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা রাখেনি। রাখলে আজকে আমাদের এই ক্ষতি হতো না।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এই বাঁধটি খালের পাড়ের বাঁধ এবং পার্শ্ববর্তী একটি জলমহালের ইজারাদার চলতি মৌসুমেই এখানে বাঁধ কেটে মাছ ধরেছিলো। তারপর তারা কোনরকমে বাঁধ নির্মাণ করলে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতে বাঁধটি দুর্বল হয়ে যায়।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলেও কৃষকরাই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসায় বোরো ধানের তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নয়, এটি মূলত খালের পাড়ের একটি অংশ। তারপরও বাঁধের 
একাংশ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করলে গ্রামবাসীদের প্রচেষ্টায় তা দ্রুত মেরামত হয়েছে।’

সুনামগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘দেখার হাওরে যে এরকম একটি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, তা আমাদের জানা ছিল না। আগে থেকে জানলে ব্যবস্থা নেয়া যেতো, কারণ আমরা চাই না কোন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হোক।’

বিলের ইজারাদার কর্তৃক বাঁধ কাটার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতির জন্য কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, দেখার হাওর, ফসল, বোরো ধান, কৃষক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ