হবিগঞ্জে ফসলহানি ও মাছের সংকটে পেশা বদলাচ্ছেন হাওরপারের মানুষ
কৃষি
বাড়ানো হয়েছে আরও ১৫ দিনের মেয়াদ
প্রকাশঃ ১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৮ অপরাহ্ন
নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। জেলার অধিকাংশ হাওরে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। ফলে আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা।
কৃষক ও হাওর–সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন না হলে আগাম বন্যায় হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে বোরো ফসল রক্ষায় জেলার ১২ উপজেলায় ৫৩টি হাওরে প্রায় ৬০২ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৭১৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে গত ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও পুরো কাজ শেষ হয়নি। পাউবো দাবি করছে, প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, বাস্তবে এখনও উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি রয়েছে।
সরেজমিনে ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাঁধে মাটির কাজ শেষ হলেও দুরমুজ, স্লোপ কমপেকশন ও ঘাস লাগানোর কাজ বাকি রয়েছে। কোথাও কোথাও এখনও মাটির কাজ চলমান। বেশ কয়েকটি ক্লোজারে কার্পেটিংয়ের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
পিআইসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কাজের তুলনায় বিল না পাওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
হাওরপাড়ের কৃষকদের ভাষ্য, উজানে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে এ অঞ্চলের নদ–নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় বাঁধ অসম্পূর্ণ থাকলে ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখার হাওরের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, “কয়েক কেয়ার জমিতে ধান চাষ করছি। এই ফসলের ওপরই পরিবার নির্ভর করে। বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ না হলে আগাম বন্যায় সব শেষ হয়ে যাবে।”
কৃষক সুন্নত আলী বলেন, “আমরা চাই ধান কাটার আগ পর্যন্ত হাওর নিরাপদ থাকুক। দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করার দাবি জানাই।”
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্পষ্ট।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “প্রতি বছরই বাঁধ নির্মাণে গড়িমসি করা হয়। এবারও একই চিত্র। গাফিলতির কারণে ফসল ডুবি হলে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, নির্বাচনের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নতুন করে ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে এবং বর্ধিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি শুক্রবার সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
ফসল রক্ষা বাঁধ, সুনামগঞ্জ, হাওরাঞ্চল, বোরো ফসল, কৃষক