১৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোটের সমীকরণ: হবিগঞ্জ-২

‘গরীবের ডাক্তার’ আর ‘বড় হুজুরের’ লড়াই, টার্গেট আ. লীগের ভোট

মো. আব্দাল মিয়া, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ

প্রকাশঃ ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৬:৪৬ অপরাহ্ন


এশিয়ার সর্ববৃহৎ গ্রাম হিসেবে পরিচিত বানিয়াচং ও হাওরবেষ্টিত আজমিরিগঞ্জ এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-২ আসন। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১১টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে এ আসনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে আটবার। আর জাতীয় পার্টি দুইবার এবং বিএনপি মাত্র একবার। 


দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন (ধানের শীষ) ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ (ঘড়ি)। ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন আব্দুল বাছিত আজাদ। এবার সেই ধানের শীষেরই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি তিনি। 


‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও ‘বড় হুজুর’ খ্যাত আব্দুল বাছিত আজাদ দুজনের মধ্যে কে যাচ্ছেন সংসদে-এই প্রশ্নই এখন লোকমুখে। চায়ের দোকান-হাঁটবাজার থেকে শুরু করে ঘরের খাবারের টেবিল-সবখানেই ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন, এইবার সংসদে যাবে কে?


যদিও এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে আর মাত্র তিনদিন পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তবুও নানা শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ  থেকে ওঠে আসছে ভিন্ন তথ্য। কেউ বলছেন, ‘গরীবের ডাক্তার’, আবার কেউ বলছেন ‘বড় হুজুর’। 


এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী (লাঙ্গল), বাসদের প্রার্থী লোকমান আহমেদ তালুকদার (মই) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক আফসার আহমেদ রূপক (ফুটবল)।


ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে অনেকটা এগিয়ে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। তিনি রাজনীতির শক্ত ভিত গড়ে ওঠেছে সেবা ও দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজ দিয়ে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও মাঠ না ছাড়ার কারণে তিনি অর্জন করেছেন বেশ জনপ্রিয়তা। গত দেড় দশকে ৪৮৬টি গ্রাম চষে বেড়িয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের সময়েও এ দুই উপজেলার মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন সবসময়। নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার আগেই আগেই তিনি দুই উপজেলার সবকটি ওয়ার্ড ঘুরে সভা-সমাবেশ করেছেন। এসব কিছুই তাকে নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।


তবে, মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ একেবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারবেন না, এমনও নয়। বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ উপজেলায় আলেম সমাজ ও ইসলামি দলগুলোর প্রভাব সুদৃঢ়। মসজিদ, কওমি মাদ্রাসা ও ওয়াজ মাহফিলে গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় ‘বড় হুজুর’ এর নাম। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য যদি শেষ পর্যন্ত অটুট থাকে, তবে এই সংগঠিত ভোট ঘড়ি প্রতীকের দিকেই ঝুঁকবে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 


তবে, শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় নয়, ভোটের মাঠে এই দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে।  


ভোটারদের ধারণা, এ আসনে অন্তত ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট আওয়িামী লীগের এসব ভোট যেদিকে যাবে,  ফলাফল সেদিকেই যাবে। 


এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯১৯জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩২০জন। দু্ই উপজেলার মধ্যে বানিয়াচংয়ের ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৩জন।   


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

ভোটের সমীকরণ, হবিগঞ্জ-২, সাখাওযাত হাসান জীবন, আব্দুল বাছিত আজাদ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ