যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি এগিয়ে নিতে চায় সরকার: অর্থ উপদেষ্টা
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৯:১৬ অপরাহ্ন
সিলেটে আরও একটি স্থলবন্দরের উদ্ভোধন করা হয়েছে। দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর শুধু আমদানি-রপ্তানিকেন্দ্রিক নয়, এটি পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সাদাপাথরকে ঘিরে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে বন্দরের ভেতরে আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া, মসজিদ, কাচঘেরা দোতলা পোর্ট ভবন, তিনতলা মাল্টি এজেন্সি ভবন, একটি গেস্ট হাউস, দুটি ডরমিটরি ও একটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে।
পর্যটকদের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে পার্কিং, চিকিৎসাসেবা, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা। প্রতিটি স্থাপনার জন্য আলাদা সড়ক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের প্রকল্প পরিচালক সারোয়ার আলম বলেন, ‘এই বন্দর পুরোপুরি পর্যটনবান্ধবভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে নির্মিত রেস্টুরেন্ট, গেস্ট হাউস, মসজিদ ও মেডিক্যাল সেন্টার শুধু বন্দর ব্যবহারকারীদের নয়, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও ব্যবহার করতে পারবেন।’
তিনি জানান, বন্দর চালু হলে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র বদলে যাবে।
বর্তমানে ভোলাগঞ্জ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ ট্রাক চুনাপাথর আমদানি হয়, যা এতদিন ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছিল। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু হলে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। বন্দর চালুর পর ট্রাক চলাচল হবে নির্ধারিত রুট দিয়ে, ফলে প্রধান সড়কে পর্যটকদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। পর্যটকরাও সহজে বন্দর এলাকা অতিক্রম করে সাদাপাথরের নৌঘাটে যেতে পারবেন।
ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে ২০০৫ সাল থেকে ভারতের খাসি হিলস জেলার মাজাই এলাকা থেকে চুনাপাথর আমদানি শুরু হয়। পরে ২০১৯ সালে সরকার এটিকে দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে অনিক ট্রেডিং করপোরেশন ও মজিদ সন্স অ্যান্ড মাসুদ স্টিল।
প্রথমদিকে জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় কাজ বিলম্বিত হলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ৫ আগস্ট কিছু নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি লুটপাটের ঘটনায় কাজ ব্যাহত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত কাজ শেষ করে।
অনিক ট্রেডিং করপোরেশনের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে পেরেছেন। মজিদ সন্স অ্যান্ড মাসুদ স্টিলের রাশেদ আহমদও বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
ভোলাগঞ্জ স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘বন্দর চালু হলে এলাকার পরিবেশ ও অর্থনীতি পাল্টে যাবে। পর্যটকরা এখানে থাকার ও খাওয়ার সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মাসুদ রানা, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের ইনচার্জ গিয়াস উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থলবন্দর, ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর, সিলেট, পর্যটন