০৭ মে ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / উদ্যোক্তা

বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণে সিলেটের ফাহিমের সাফল্য, হলেন সিআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:১৭ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবসে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনাবাসী বাংলাদেশি ক্যাটাগরিতে সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) নির্বাচিত হয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের উপজেলার প্রবাসী ফাহিম আহমদ। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ফারুক পারফিউম-এর স্বত্বাধিকারী।

 

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সিআইপি অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এবার নির্বাচিত ৭৫ জনের মধ্যে তিনি একমাত্র সিলেট জেলা থেকে নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

 

বাংলাদেশের কাঁচামাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আতরশিল্পে সাফল্য গড়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিলেটের ফাহিম আহম অন্যতম। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ ফারুক পারফিউম কোম্পানি এ অঞ্চলের পারফিউম শিল্পে একটি আলাদা পরিচিতি স্থাপন করেছে।

 

১৯৮০ সালে আবুধাবিতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ, বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নের বাসিন্দা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৫ বছর পর তার সন্তান ফাহিম আহমদ প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ইউরোপ ও আফ্রিকার বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ব্র্যান্ড। চলতি বছর আমিরাত সরকারের ‘আরবান ট্রেজার’ পদকে ভূষিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এক সাক্ষাতকারে ফাহিম আহমেদ সিলেট ভয়েসকে জানান, ‘আমাদের ব্যবসা শুরু করেছিলেন বাবা। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে আমরা ধাপে ধাপে শাখা বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমাদের ছয়টি আউটলেট এবং নিজস্ব পারফিউম ফ্যাক্টরি আছে। টেক্সটাইল ব্যবসাতেও আমাদের তিনটি শাখা রয়েছে এবং প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী কর্মরত।’

 

বাংলাদেশের কাঁচামাল, বিশেষ করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা অঞ্চল থেকে আগর উদ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের পারফিউম তৈরি করে। ফাহিম জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত আগর উদের মান আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই চাহিদা বাড়ছে। ডিওর, শ্যানেলসহ বড় প্রতিষ্ঠানও এখন উদ ভিত্তিক পারফিউমে আগ্রহী। আমাদের প্রোডাক্টের মান ভারত ও মালয়েশিয়ার তুলনায় অনেক ভালো।

 

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগর উদের চারা রোপণ বাড়ানো ও বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন প্লান্টেশন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রোডাক্ট সরবরাহের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।’


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

ফারুক পারফিউম, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফাহিম আহমদ, সিলেট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ