০৬ জুন ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে বিজয় দিবস আয়োজনে অসঙ্গতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

আশিকুর রহমান আশিক, প্রতিনিধি, শাবিপ্রবি

প্রকাশঃ ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:৫২ অপরাহ্ন


সারাদেশে যখন বিজয় দিবস উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে, তখন দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিজয় দিবসের আয়োজন ছিল অনেকটাই সাদামাটা। বিজয় দিবসে শাবি প্রশাসনের বিভিন্ন অসঙ্গতি বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্টের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ উপলক্ষে ৩০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টোকেন সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের সিদ্ধান্তের কারণে শুরু থেকেই প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয় দিবসের ফিস্টের খাবারের মেনু প্রকাশের পর দেখা যায়, গরু বা খাসির মাংসের পরিবর্তে ব্রয়লার মুরগি রাখা হয়েছে। মেনু প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী ফিস্ট বয়কটের ঘোষণা দিয়ে পোস্ট করেন।

শাবির বিজয়-২৪ হলের নোটিশ বোর্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি হ্যান্ড-প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে লেখেন, ‌‘বছরের একদিন খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাও যদি গরু বা খাসি বাদ দিয়ে পোল্ট্রি মুরগি হয় তাহলে এই ফিস্ট আমরা বয়কট করলাম।’

অন্যদিকে, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের নোটিশ বোর্ডে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরেকটি হ্যান্ড-প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে লেখা হয়, ‘বিজয় দিবসের ফিস্টের নামে পোল্ট্রিভোজ আমরা মেনে নেব না। ফিস্টে গরু কিংবা খাসি বাদ দিয়ে এ আয়োজন আমরা বয়কট করলাম।’

এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিনি অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে নাস্তা বিতরণের কথা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থীরা নাস্তা পাননি বলে অভিযোগ ওঠে।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থী আবরার বলেন, ‘আমি আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু নাস্তা পাইনি। নাস্তা চাইলে দায়িত্বশীলরা বলেন নাস্তা শেষ হয়ে গেছে। এত বড় আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আয়োজন করা উচিত ছিল।’

বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। এ বছর কোনো একাডেমিক ভবন কিংবা আবাসিক হলে আলোকসজ্জা চোখে পড়েনি। কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর ও প্রধান গেট এলাকায় সীমিত আকারে আলোকসজ্জা লক্ষ্য করা গেছে।

এমন সাদামাটা আয়োজনে অনেক শিক্ষার্থী হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে ২০২২–২৩ সেশনের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে প্রতিবছর দেখেছি হল, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়। কিন্তু এবার হলে বা একাডেমিক ভবনে কোনো আলোকসজ্জা হয়নি। এমন সাদামাটা আয়োজন আমি এই প্রথম দেখলাম।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মাজেদুল করিম বলেন,"আলোকসজ্জার বিষয়ে বলতে চাই, আমাদের ইচ্ছা ছিল কম পরিসরে আলোকসজ্জা করে আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীদের জন্য ফেস্টের আয়োজন করা। সে কারণে আলোকসজ্জা সীমিত রাখা হয়েছে। আমরা ফেস্টের ওপর জোর দিয়েছিলাম, তবে সময় স্বল্পতার কারণে আশানুরূপ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ভালো বাবুর্চির সংকট ছিল বলেও আমাকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালোভাবে আয়োজন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

আলোচনা সভার খাবার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আয়োজক কমিটিকে পর্যাপ্ত বাজেট দেওয়া হয়েছিল। আমি খাবারের সংকটের বিষয়টি জানতাম না। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো।’


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, শাবিপ্রবি, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজয় দিবস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ