০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

অবাধ নির্বাচনের জন্য বিশেষ অভিযান জরুরি: খন্দকার মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:৫২ অপরাহ্ন


সিলেট–১ (সদর ও মহানগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা দেশের সব রাজনৈতিক কর্মীর জন্যই উদ্বেগজনক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে অতীতের মতো সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা জরুরি।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটে নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার সন্ত্রাস দমনে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হতো। এবারও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা।

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশক ধরে দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। পরপর তিনবার ‘দিনের ভোট রাতে’ হওয়ার মতো বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে।

বিএনপি সব সময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপির শাসনামলে কেউ দলীয় পরিচয়ে অপরাধ করে পার পায়নি। ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের কোনো জায়গা থাকবে না।

জনাকীর্ণ এ মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নির্বাচিত হলে সিলেটের উন্নয়নে তার কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিলেটের অর্থনীতির বড় দুর্বলতা কর্মসংস্থানের অভাব। পাথর কোয়ারি, ব্রিকফিল্ড ও পরিবহণ খাত ছাড়া বড় শিল্প নেই বলেই তরুণরা বিদেশমুখী। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি নীতি সহায়তায় নতুন শিল্প স্থাপন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে।

কৃষি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে সিলেটের এক ফসলি জমি দুই ফসলিতে রূপান্তর হয়েছিল। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে কৃষিতে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নগর সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো কসমেটিক উন্নয়ন নয়—জলাবদ্ধতা নিরসন, সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে নগরীতে মাদক ও অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি বিমান যোগাযোগ হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিমানবন্দরটি সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সিলেট–ঢাকা মহাসড়ক, সিলেট–চট্টগ্রাম সড়ক এবং রেল যোগাযোগ ‘এ ক্লাসে’ উন্নীত করা হবে। যোগাযোগের উন্নয়ন হলে বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরীসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদরা।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, খন্দকার মুক্তাদির, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সিলেট-১

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ