স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না রাখার পরিকল্পনা ইসির
নির্বাচন
প্রকাশঃ ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে গেছে বিএনপি। তফসিল ঘোষণার আগেই এসব আসনে দলটির প্রার্থীরা ধারাবাহিক প্রচারণা শেষ করেছেন। একমাত্র সিলেট-৫ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় সেখানেই এখন দলটির বাড়তি নজর। তবে বাকি পাঁচ আসনে বিএনপি কার্যত নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে।
প্রার্থী ঘোষণার আগেই ধানের শীষের পক্ষে এবং দলের ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালিয়েছেন নেতারা। দীর্ঘদিন ধরেই যারা মাঠে ছিলেন, প্রার্থী ঘোষণার পর তাদের কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আগাম এই প্রচারণায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দলীয়ভাবে শুরু হবে চূড়ান্ত প্রচারণা।
মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে বিএনপি আবারও ভরসা রেখেছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ওপর। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তিনি আসনটিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের প্রতিটি এলাকায় তিনি আগেই প্রচারণা চালিয়েছেন। নগর বিএনপির সব ইউনিট তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছে।
সিলেট-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রার্থী ঘোষণার অনেক আগেই তিনি পুরো আসন চষে বেড়িয়ে ৩১ দফা নিয়ে প্রচারণা চালান। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাঁর পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন।
সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। মাঠে এগিয়ে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাকে পেছনে ফেলে মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এম মালিক। যদিও প্রার্থী ঘোষণার আগে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের শোডাউনে মাঠ উত্তপ্ত ছিল। এখন সবাই ধানের শীষের পক্ষে এলাকায় সক্রিয় থাকার বার্তা দিচ্ছেন।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রার্থী ঘোষণার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জকে ঘিরে ধারাবাহিক সফর ও দলীয় বৈঠকের মাধ্যমে শেষ পর্যায়ে এসে তিনি নির্বাচনী জোয়ার তোলার চেষ্টা করছেন।
সিলেট-৬ আসনে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি এলাকায় ঘন ঘন সফর করছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট-৫ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। শরিক দলকে আসনটি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও প্রার্থীতার চুড়ান্ত না হওয়ায় মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। যাদের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন ও জেলার যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু রয়েছেন শীর্ষে। মামুন প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, সবাই এখানে এবার বিএনপির দলীয় প্রার্থী দেখতে চান। কারণ, এখানে ধানের শীষের ভোটই বেশি। তাই দলীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণে অনেকেই মনে করছেন, দল আমাকে এখানে প্রার্থী করবে। আমি মনোনয়ন পেলে এখানে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে।
সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনেই আমাদের নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন, সিলেট-৫ আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত দলই দিবেন তারা যদি চান এখানে জোট হবে তাহলে সেটি হবে অথবা দলীয় প্রার্থী দিলেও নেতাকর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাবে।
জাতীয়, সংসদ, নির্বাচন, সিলেট