সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ৮:২২ অপরাহ্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির জনপ্রিয় মুখ আরিফুল হক চৌধুরী। বেশ কয়েকবার ‘ইজাজত’ নিয়ে শোডাউন দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে চূড়ান্ত করেছে দল।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন অত্যন্ত মর্যাদা পূর্ণ আসন। দেশের রাজনীতিতে একটি কথা রয়েছে- সিলেট-১ যার, সরকার তার। অর্থাৎ সিলেট-১ আসনে যে দল নির্বাচিত হবে, সেই দলই সরকার গঠন করবে। যার কারণে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে এই আসনটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির জনপ্রিয় মুখ আরিফুল হক চৌধুরী। কয়েক দফায় তিনি নির্বাচনী প্রচারণাও চালান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় ছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন, নগরীর তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আরিফুলের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি।
তবে শেষ পর্যন্ত দল বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উপরই আস্থা রেখেছে। মুক্তাদির ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে পরাজিত হন। তবে ভোটে কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সে সময় ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন মুক্তাদির।
গত বছর শেখ হাসিনার পতনের পর নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে পাওয়ায় সিলেট-১ আসনে বিএনপির সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এই আসনে থাকলেও বরাবরই মূল আলোচনায় থাকেন বিএনপি প্রার্থীরা।
এজন্যই এই আসন নিয়ে বিএনপি চেয়ার পারসনের দুই উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী সরব ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে দুজনেই ছিলেন বেশ ত’পর। তবে আরিফ একাধিকবার দলের গ্রীন সিগন্যালের কথা বললেও নিরব ছিলেন মুক্তাদির। নিরবেই কাজ করেছেন এতোদিন। শেষ পর্যন্ত খন্দকার মুক্তাদিরের নিরবতা সফলতায় পরিণত হয়েছে। আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এই আসনে বিএনপি তাকেই মনোনীত করেছে।
এ বিষয়ে সিলেট-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমি দলের সিদ্ধান্ত নিয়েই আগে থেকে কাজ শুরু করেছি। আজ দল ঘোষণা দিয়েছে। এজন্য দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।
সিলেটবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগীতা চেয়ে মুক্তাদির বলেন, বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে ও নির্বাচনের লক্ষ্যে দল যাদেরকে মনোনীত করেছে, সবাই তাদের হয়ে কাজ করবেন। বিএনপি একটা সুশৃঙ্খল দল। দলের যেকোনো বিএনপি সবসময়ই ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যতো নির্বাচন হয়েছে সেসব নির্বাচনে দলের মনোনয়নের অনেকেই প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল যাকে মনোনীত করেছে আমরা সবাই তার পক্ষেই কাজ করেছি। এটা বিএনপির সবচেয়ে অর্জন। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিএনপি এক হতে পারে এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরিফ, মুক্তাদীর, বিএনপি, সিলেট-১ আসন, জাতীয় নির্বাচন