২০ এপ্রিল ২০২৬

কৃষি / কৃষি প্রযুক্তি

কৃষকদের কাজে আসছে না ৪৩টি কম্বাইন হারভেস্টার

প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ৮:৩০ অপরাহ্ন

ছবিঃ ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। বাড়তি আয়ের আশায় অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফসল ফলিয়েছেন। তাই সময়মতো ফসল তুলতে তোড়জোড় চলছে কৃষক পরিবারে। 


কিন্তু ফসল তুলতে আধুনিক কৃষি যন্ত্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষকরা। সরকারি সহায়তায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে কেনা ৪৩টি কম্বাইন হারভেস্টার কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। 


কাগজে-কলমে মেশিন থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর দেখা মিলছে না মাঠে। বাধ্য হয়ে কৃষকদের অনেকেই অতিরিক্ত মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করে ধান কাটতে হচ্ছে। ফলে আয়ের তুলনায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধান কাটার কাজকে সহজ করতে বোরো মৌসুমে সরকার উপজেলার কৃষকদের জন্য ৪৩টি কম্বাইন হারভেস্টার সরবরাহ করেছে। এই আধুনিক যন্ত্র প্রতিঘণ্টায় এক একর জমির ধান কাটতে সক্ষম। কিন্তু সরেজমিনে হাওরের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এসব মেশিনের অধিকাংশই অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অচল মেশিনগুলো মাঠে নামানোই হয়নি।


অন্যদিকে, অনেক মেশিন মালিকদের যোগাযোগ নম্বর অনুযায়ী পরিচয়ও মিলছে না। এমনকি একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নামে দুটি মেশিন বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বরাদ্দপ্রাপ্ত মেশিন ভাড়া না দিয়ে নিজস্ব জমিতে ব্যবহার করছেন-এমন অভিযোগও কৃষকদের। ফলে সাধারণ কৃষকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


স্থানীয় কৃষক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘সরকার যে মেশিন দিয়েছে, তার কোনো সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। যারা প্রকৃত কৃষক নয়, তারাই মেশিন নিয়ে বসে আছে। আমাদের প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক এনে ধান কাটতে হচ্ছে।‘


কৃষকদের অভিযোগ, মেশিন বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নজরদারির অভাব রয়েছে। প্রকৃত কৃষকরা সরকারের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। যাতে সময়মতো ফসল ঘরে তুলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লোকসানের আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘অচল মেশিনগুলোর বিষয়ে সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। যন্ত্রাংশের দাম বেশি এবং স্থানীয়ভাবে না পাওয়ায় দ্রুত সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা করছি, ধান কাটা পুরোদমে শুরু হলে অধিকাংশ মেশিন মাঠে নামবে।‘


তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে কিছু মেশিন সচল রয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা দিয়ে ধান কাটার কাজ শুরু হয়েছে।‘


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

কৃষি, কম্বাইন হারভেস্টার, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ