হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু, আহত ৪
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৪ জুলাই, ২০২৫ ৭:৪৬ অপরাহ্ন
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অপরাধীদের বিচার শুরু করে নির্বাচন দিতে হবে। তা অবশ্যই আগামী বছরের প্রথমার্ধে হতে হবে। মৌলিক সংস্কার শেষ না করে আগের মতো নির্বাচন হলে এটি জাতির জন্য আবারও দু:খ ও বেদনার কারণ হবে। আমরা এটা দেখতে চাই না এবং হতে দিতেও দেবো না।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দুই চারটা হলেও শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সব বিচার এই সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে আমরা সরকার ও বিচার বিভাগের আন্তরিকতা দেখতে চাই। অবশ্যই দৃশ্যমান কিছু দেখতে চাই। দুই চারটা হলেও শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি দেখতে চাই। এরপর এই ধারা চলমান থাকবে। যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব হবে বিচার চালিয়ে যাওয়া ও সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়া।
জামায়াতের আমীর বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এবং মনের মতো দল বা ব্যক্তিকেও বাছাই করতে পারেনি।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি জামায়াতের সংস্কৃতি নয় উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, মানুষের ইজ্জতে হাত দেওয়া আমাদের রাজনীতি না। যেই দল তার কর্মীদের এভাবে গড়ে তুলেছে, সেই দল ক্ষতায় গেলে দেশকেও এভাবে গড়ে তুলবে। জামায়াতের হাতে দেশের একজন মানুষও অনিরাপদ থাকবে না।
চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট যারা করে তারা ভিক্ষুকের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ভিক্ষা করা হালাল। যদি পেটের অবস্থা এমন হয় তাহলে আপনি ভিক্ষা করেন। কেন সিন্ডিকেট করবেন। কেন চাঁদাবাজি করবেন। আমি কোনো দলকে বলছি না। এরকম চরিত্র যাদের আমি তাদেরকে বলছি। তবে তিনি যদি কোনো দলের নেতা বা কর্মী হন তাহলে আমার কিছু করার নেই।
জামায়াত আমীর আরও বলেন, একটা যুদ্ধ করেছি ফ্যাসেবাদের বিরুদ্ধে। এবার একটা যুদ্ধ করবো দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের বিজয় হবে।
ডা. শফিক বলেন, রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা সেক্টর তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন অসহায় হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেট বন্ধ করলে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ দাম কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে মাস্টারমাইন্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমারা জুলাই আন্দোলনের বুদ্ধিভিত্তিক বা কর্মগত মাস্টারমাইন্ড কখনও দাবি করিনি। বরং আমরা এটা অস্বীকার করেছি। কারণ একজন বা দুইজনকে মাস্টারমাইন্ড বললে, বাকিদের আন্ডারমাইন্ড করা হবে। আমারা কাউকে আন্ডারমাইন্ড করতে চাই না। আমার প্রত্যেক যোদ্ধাকে সম্মান জানাতে চাই। সকল যোদ্ধারাই আমাদের মাস্টার মাইন্ড। কোনো একক ব্যক্তি নয়।
রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে শহীদ ও আহতদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুকনো কথায় চিড়া ভিজাতে চাই না। দেশের বাইরে আমাদের বেগম পাড়া নেই, দাদার বাড়ি-নানার বাড়ি নেই। আমাদের বিদেশী প্রভু নেই। আমাদের প্রভু একজন। প্রতিবেশি দেশ অগ্রাধিকার পাবে, কিন্তু আমাদের অধিকার হরণ করতে চাইলে ১৮ কোটি মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়াবে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আমীর মখলিছুর রহমান, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী ও নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম বাবুল। সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারাও বক্তব্য রাখেন।
জামায়াত আমীর, সিলেট