যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি এগিয়ে নিতে চায় সরকার: অর্থ উপদেষ্টা
ব্যবসা-বাণিজ্য
# ছুলাপুটি স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয় # দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে # শুঁটকি বিষমুক্ত হওয়ায়, চাহিদা বেশি
প্রকাশঃ ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ৭:০৩ অপরাহ্ন
সিলেটের ভোজন রসিকদের অন্যতম খাবার শুঁটকি। বাসা-বাড়ি ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন রেস্তুরাতেও খাবারের মেন্যুতে মিলে মজাদার শুঁটকি। একসময় শুঁটকির দাম কম থাকায় ‘গরীবের খাবার‘ হিসেবে ব্যবহার হত। কিন্তু দিনদিন স্বাদ আর গন্ধে- দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চাহিদাও বাড়ছে শুঁটকির। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোজন রশিকদের কাছে খবারের মেন্যু সিলেটি সিদল ও ছুলাপুটি শুঁটকি। দেশ ছাড়িয়ে এখন বিদেশের নামীদামি রেস্টুরেন্টের শুটকির কদর ব্যাপক।
সরজমিনে সিলেট বিভাগের একমাত্র শুঁটকির উৎপাদন কেন্দ্র বিশ্বনাথের লামাকাজি ইউনিয়নের মাহতাবপুরে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠছে শুঁটকির উৎপাদন কারখানা। এর পাশেই রয়েছে মৎস্য আড়ত। মাছের আড়তকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে শুঁটকি সরবরাহ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি।
সরজমিনে আরও দেখা যায়, চতুর্দিকে ছোট-বড় অনেক ডাঙ্গাইল। শুঁটকি শুকাতে বাশঁ দিয়ে এসব ডাঙ্গাইল বানানো। আর ছোট জাতের শুঁটকি শুকাতে তৈরি হয় মাচান। এসব ডাঙ্গাইলে শুঁটকি উৎপাদন বছরের ৬ মাস হয়। বিশেষ করে মাজারা শুটকি হচ্ছে ছুলাপুটি এটি বাংলাদেশিদের পছন্দের তালিকায় এক নম্বর। আর গাজরপুটি ভারতীয়দের খুবই জনপ্রিয়।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের লক্ষ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন বিলেতে। আর সেসকল প্রবাসীদের কাছে শুঁটকির কদরই আলাদা। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে সিঁদল, ছুলাপুটিসহ শুঁটকির চাহিদা ব্যাপক। লন্ডনে বসবাসরত স্বজনদের কাছে দেশ থেকে প্রায় সারা বছরই শুঁটকি পাঠিয়ে থাকেন আত্মীয়স্বজনরা। আবার লন্ডন বা আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে থাকা সিলেটী প্রবাসীরা দেশ থেকে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য শুঁটকি নিয়ে যান।
শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, মাহতাবপুরে প্রায় ৩৫টি ছোট-বড় শুটকির ডাঙ্গাইল রয়েছে। তারা শুঁটকি তৈরিতে শুরুতেই কাঁচা মাছ দৌত করে, লবন প্রক্রিয়াজাত করার পর ২/৩ ঘন্টা ধরে ডেকে রাখেন, এর পর প্রখররোদে এগুলো শুকাতে দেওয়া হয়। দীর্ঘ বেশ কিছুদিন ভালো করে শুকানোর পর ভালো জাত বাচাঁই করে বিক্রির জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আসা-পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান বিভিন্ন বাজারে।
এ বিষয়ে `সিলেট ভয়েস‘ এর সাথে কথা হয় মাহতাবপুর শুঁটকি সাপ্লায়ার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহর। তিনি জানান, বছরে ছয় মাস আমরা শুঁটকি ব্যবসায় করি। অল্পদিনের হলেও এটি লাভজনক ব্যবসা। আমাদের শুঁটকিগুলো প্রক্রিয়াজাত করার পর, দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠে।
তিনি আরো বলেন, সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ৎ সিলেট নগরীর মাছিমপুর। সেখানেই শুঁটকি বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নিয়ে যান ক্রেতা-বিক্রেতারা।
মাহতাবপুর শুটকির কারখানায় ব্যবসায়ীরা বছরের ৬মাস শুঁটকি উৎপাদন করেন। আশপাশ এলাকার প্রায় পাচঁ শতাধিক নারী ও পুরুষ শুঁটকি উৎপাদন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। এসব ডাঙ্গাইলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে। তারা মাছ কাটা থেকে লবণ ছিটানো ও রোদে শুকানোর কাজ করে। এর বিনিময়ে মাসিক-১৬ হাজার থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরি পান ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা।
মির্জারগাওঁ শ্রমিক গিয়াস উদ্দিন ও গৌছ উদ্দিনরা জানান, মাছ কাটার পর লবণ ছিটিয়ে দেয়ার পর রুদে শুকানোর প্রায় ৪ ঘণ্টা পর চাতাল করে বা উঁচু মাটির ডিবিতে রাখা হয়। এখানে পুঁটি, টৈংরা, বাইম, চিংড়ি, চান্দা ও কাইখ্যা এইসব প্রজাতির মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন জেলা থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী ধরে বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশের এই ব্যবসায়ীরা শুঁটকিগুলো ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। পুঁটি মাছের শুঁটকি ভারতে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত পুটি শুটকির বড় অংশ উৎপাদন হয় সিলেটে।
বিশ্বনাথ, শুটকি, সিলেট, রপ্তানি, আমদানি, ব্যবসা, হুটকি, হুকুইন, ছুলাপুটির শুঁটকি