০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বুঝতে শুরু করেছেন ভারতের নীতিনির্ধারকেরা: হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২৯ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টি ভারতের নীতিনির্ধারকেরা বুঝতে শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’


আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) হলরুমে সিলেটে কর্মরত ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।


ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্পৃক্ততা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়গুলোও এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।’


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলো ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। ভারতের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছেন।’


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার দুই দফা সাক্ষাৎ হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।’


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।’


তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।’


ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই থাকা উচিত।’


রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গেও একটি কার্যকর কর্ম সম্পর্ক গড়ে উঠছে।’


তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’


হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী বৈধতা ও জনগণের সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে।’


পররাষ্ট্রনীতি নমনীয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পররাষ্ট্রনীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়, পুনর্বিন্যাস ও কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে হবে। বৈদেশিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও একই কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক, অর্থনৈতিক, তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোকে সমন্বিত ও পরস্পরের পরিপূরক হতে হবে।’


দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বোঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’


নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’


বিমান কেনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে—এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’


মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’


কলকাতায় বাংলাদেশিদের হোটেলে থাকার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশিরা হোটেল না পেয়ে রাস্তায় রাত কাটানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র বা আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।’


তিনি বলেন, ‘দেশের পরিবহন ও বিমান যোগাযোগব্যবস্থা এখনো সম্ভাবনার তুলনায় সীমিত। ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।’


আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে অভিন্ন স্বার্থে আঞ্চলিক দেশগুলো যাতে সমন্বিত অবস্থান নিতে পারে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ কাজ করছে।


বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ কারণে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন করেছে।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, হুমায়ুন কবির, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক, সিলেট সাংবাদিক মতবিনিময়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ