ওসমানী হাসপাতাল
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা না মানার অভিযোগ, সতর্ক করল প্রশাসন
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন
সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা না মানার অভিযোগ উঠেছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। বুধবার রাত ১০টায় তিনি নিজে সিলেট ভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সকাল ৯টার পরও বহির্বিভাগের ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৬৫ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হন। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত কর্মসময়ের ইন টাইম সকাল ৮টা এবং আউট টাইম দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সম্প্রতি বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের হারও বেশি। বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। ফলে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, হাসপাতালে রোগীদের নিরবচ্ছিন্নভাবে ও সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা পরিচালনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চত করার জন্য চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিচালক বলেন, ‘বিষয়টি দ্বারা চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে উপস্তিত হয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম অনুসরন করতে হবে। পুনরায় তা পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিকিৎসক, হাসপাতাল, কর্মঘণ্টা, অনিয়ম, সতর্কতা, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি