কুলাউড়ায় চা-শ্রমিকের পিএফ ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুই দফায় বিক্ষোভ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০২ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চা–শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। পাওনা টাকা ফেরত ও ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফায় বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফিরে যান শ্রমিকেরা।
জানা যায়, উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নে ন্যাশনাল টি কোম্পানির আওতাধীন বিজয়া চা–বাগানের নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন জারিয়া খাড়িয়া। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ২০২২ সালে তার মৃত্যু হয়। এরপর জারিয়ার পিএফ ফান্ডের টাকা পেতে তার স্ত্রী ও সন্তান আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের শেষদিকে জারিয়া খাড়িয়ার পেনশনের ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৬০ টাকা বিজয়া চা-বাগানের একাউন্টে জমা করে ন্যাশনাল টি কোম্পানি। ওই সময় বিজয়া চা-বাগানে কেরানি বাবুর দায়িত্বে ছিলেন কিষোন চন্দ্র দাস (ছানা বাবু)। তিনি নিজেও বিজয়া চা-বাগানের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর উপজেলার পারকুল চা বাগানে কেরানি বাবুর দায়িত্বে আছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ছানা বাবু পিএফ ফান্ডের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করলেও জারিয়াকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে জারিয়ার পরিবারকে তিনি বলেন, ‘টাকা এখনও আসেনি। এলেই দেওয়া হবে।’
শ্রমিকদের অভিযোগ, এভাবে চলতে চলতে ২৬ সালের শুরুর দিকে ছানা বাবু বিজয়া চা-বাগান থেকে পারকুল চা বাগানে বদলি হয়ে যান। পরে নিরুপায় হয়ে জারিয়ার স্ত্রী সন্তান গিয়ে বাগানের শ্রমিক কানু লায়েক, রফিক মিয়া ও লছমন পাশিকে বিষয়টি জানালে তারা বিষয়টি বাগান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরকে জানান।
বাগানের শ্রমিক কানু লায়েক, রফিক মিয়া ও লছমন পাশিসহ অনেকেই জানান, বাগানের শ্রমিক জারিয়ার পিএফ ফান্ডের টাকা ২০২৩ সালে জমা হয়েছে। কিন্তু বাগানের সাবেক কেরানি ছানা বাবু, ক্লার্ক শিউলি বুনার্জী এবং বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্য মিলে টাকাগুলো উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
তারা জানান, এখন বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় অযিযুক্ত উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। তাই বাগানের সকল শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্যকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে লছমন পাশীকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছেন। পাশাপাশি সাবেক কেরানি ছানা বাবু ও ক্লার্ক শিউলি বুনার্জীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তপক্ষের কাছে আবেদন করেন শ্রমিকেরা। পরে ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে সাময়িকভাবে তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পুনরায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন শ্রমিকরা।
পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্য বলেন, ‘জারিয়ার পিএফ ফান্ডের টাকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। যদি কেউ তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে সব শাস্তি তিনি মাথা পেতে মেনে নিবেন।’
এদিকে আত্নসাতের অভিযোগ নাকচ করে বিজয়া চা-বাগানের সাবেক কেরানি কিষোন চন্দ্র দাস (ছানা বাবু) বলেন, ‘জারিয়া খাড়িয়ার পিএফ ফান্ডের কোন টাকা তিনি নেননি। টাকাগুলো বাগানের কাজেই ব্যয় করা হয়েছে। আগামী রোববার তাদের টাকাগুলো দেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে বাগান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি এখানে আসার কিছুদিন পরই ছানা বাবু বদলি হয়ে যান। শ্রমিকদের তথ্যানুযায়ী আমি পুরাতন ফাইলপত্র তল্লাশি করে দেখতে পাই আরও দুইবছর আগে জারিয়া খাড়িয়ার পিএফ ফান্ডের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সাবেক কেরানি ছানা বাবুও টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘জারিয়া সময়মতো তার টাকাগুলো পায়নি এটা সত্যিই দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হবে।’
চা শ্রমিক, পিএফ ফান্ড, টাকা আত্মসাৎ, বিক্ষোভ, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার