০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

সুনামগঞ্জের ১৩ নদীর খনন প্রকল্পের প্রস্তাবনা দুই বছর ধরে ঝুলছে মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৫২ অপরাহ্ন


প্রতিটি বোরো মৌসুম আসার আগেই সুনামগঞ্জের কৃষকদের কপালে পড়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। একদিকে সেচের অভাব, অন্যদিকে আকস্মিক বন্যার ভয়। এই দুই শঙ্কায় বছরের পর বছর কাটছে কৃষকদের। 


অবশ্য এই কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। জেলার তেরোটি নদীকে পুন:খনন করতে দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পাউবো। কিন্তু দুই বছর পার হলেও সেই প্রকল্পের প্রস্তাবনা ঝুলে আছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের টেবিলে। 


এ অবস্থায় সহসা শঙ্কা কাটছে না কৃষক পরিবারে। আগামী বোরো মৌসুমের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, শঙ্কাও বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। 


হাওরকন্যা সুনামগঞ্জের প্রধান সমস্যা নদী ও হাওরের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য না থাকা। ফলে গ্রীষ্মকালে নদীর পানি হাওরে আসে না। অন্যদিকে বর্ষাকালে নদীর পানি সরাসরি ঢুকে পড়ে এবং ক্ষেতের ধান নিমগ্ন করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন থেকে নদী খননের কথা ওঠছে। 


এই সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য ২০২৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পটির আওতায় তেরোটি নদীকে পুন:খনন করা ছিল অন্যতম কাজ। এ কাজে খরচ হবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা।


কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ের টেবিলে পড়ে আছে। অনুমোদনের কোনো ইতিবাচক সাঁড়া নেই। কোনো সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়নি।


দিরাইয়ের কৃষক জাকির মিয়া বলেন, নদীর পানি দ্রুত কমে না যাওয়ায় কৃষিকাজের সময়সূচি ঠিক রাখা যাচ্ছে না। জমি প্রস্তুত ও চারা লাগাতেই অনেক সময় চলে যায়। এর মধ্যে বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টি হলে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। নদীর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে কৃষকদের এই দুর্ভোগ থেকে বের হওয়া কঠিন।


জগন্নাথপুরের কৃষক আবুল হেলাল বলেন, প্রতিবছরই ঋণ করি ধান চাষাবাদ করি। কিন্তু ধান পাকার আগেই হঠাৎ জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এতে নিজের পুঁজি তো শেষ হয়েছে, পাশাপাশি ঋণের চাপও বেড়েছে। একটি মৌসুমের এমন ক্ষতি সামলে আবার আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগবে।


হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরে চলতি বোরো মৌসুমেও একই সংকটের আশংকা রয়েছে। ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হবে বীজ বপনের কাজ। কিন্তু যদি নদী খনন প্রকল্প অনুমোদিত না হয়, তাহলে এই মৌসুমেও হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছেন, এক হাজার চারশত টাকার বেশি বাজেট বরাদ্দের এই প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে হাওর এলাকায় বিপ্লব আসবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হবে অনেক বেশি কার্যকর। সেচের সমস্যা কমে আসবে। 


পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, সমস্ত প্রাথমিক কাগজপত্র ইতিমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে এর ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাবেন অবশ্যই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেই। অন্যান্য প্রকল্পের অগ্রাধিকারে এটি পিছিয়ে রয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

নদী খনন, কৃষি প্রকল্প, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষক, বোরো মৌসুম, মন্ত্রণালয়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ