০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

ই-কমার্সে ৫৮ হাজারের বেশি অভিযোগ ভোক্তা অধিকারে, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ন


ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।


রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করা এক নোটিসের জবাবে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য দেন।


অভিযোগের তালিকায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


সংসদে দেওয়া তথ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা প্রায় ৫৩১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ইতিমধ্যে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।


ই-কমার্স খাতের লেনদেনকে আরও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ ‘মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও এসক্রো সেবা নীতিমালা’ করেছে বলেও জানান তিনি।


এসক্রো ব্যবস্থায় গ্রাহকের পরিশোধ করা অর্থ সরাসরি বিক্রেতার কাছে পৌঁছে যায় না। গ্রাহক পণ্য বা সেবা বুঝে পাওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ বিক্রেতার কাছে ছাড় করা হয়। ফলে পণ্য সরবরাহ না করে গ্রাহকের অর্থ আটকে রাখার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।


ই-কমার্স ব্যবসাকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নির্দেশিকা করা হয়েছে বলে সংসদে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।


তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি দেওয়া হয়েছে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আইনি কাঠামোয় আনতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নির্দেশিকা করা হয়েছে।’


ই-কমার্স খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলাদা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা বন্ধে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা সরকারের আছে।’


তবে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সংসদে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম শুধু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নয়, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক ঝুঁকিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে জানতে চান।


অস্বাভাবিক লেনদেন, অতিরিক্ত অভিযোগ কিংবা বড় অঙ্কের দায় তৈরি হলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।


জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ই-কমার্সের শুরুতে আইন ও তদারকির ব্যবস্থায় অনেক ফাঁক ছিল। নতুন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে ডিজিটাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঠিকমতো সেবা দিচ্ছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারিতে রাখা।’


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

ভোক্তা অধিকার, বাণিজ্যমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ, ই-কমার্স লেনদেন, এসক্রো ব্যবস্থা, ডিজিটাল কমার্স

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ