সুনামগঞ্জের একফসলি অর্থনীতির সুযোগ নিচ্ছে দালালচক্র: যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম
অভিবাসন
প্রকাশঃ ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের একফসলি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে দালালচক্র তরুণদের অবৈধ পথে বিদেশে পাঠাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম একফসলি জেলা। এখানকার মানুষ বছরের একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বছরের বাকি সময়ে কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দালালরা তরুণদের উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে পাঠাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন অন্যায় নয়, অবৈধ পথই অন্যায়। বৈধ পথে গেলে রাষ্ট্র আপনার পাশে থাকে, আর অবৈধ পথে গেলে কেউ আপনার পাশে থাকে না।’
তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দালালরা প্রথমে উচ্চ বেতন ও দ্রুত ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এরপর বিপুল টাকা নিয়ে তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হয়। সেখান থেকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্লাস্টিকের নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে বাধ্য করা হয়।
একটি মৃত্যু মানে একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেনে-বুঝে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে স্বজনদের পাঠানো থেকে পরিবারগুলোকে বিরত থাকতে হবে। বৈধ পথে বিদেশ যেতে হলে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বা আরএল নম্বর যাচাই, বিএমইটির ছাড়পত্র নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
যুগ্ম সচিব বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। তবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশে পাঠাতে চায় সরকার। এ জন্য দেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাড়ানো হচ্ছে এবং ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে শুধু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নয়, পুলিশ, প্রশাসন, ইমিগ্রেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যুবসমাজ সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. জিললুর রহমান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
দালালচক্র, অবৈধ অভিবাসন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, ভূমধ্যসাগর, মানবপাচার, প্রতারণা