সিলেটে অবস্থান করলেও সিউকের অনুষ্ঠানে যাননি আরিফুল হক চৌধুরী
রাজনীতি
প্রকাশঃ ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৪২ অপরাহ্ন
সিলেটে অবস্থান করেও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেননি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি ছিলেন। সুধী সমাবেশের ব্যানারেও তার নাম ছিল। এমনকি উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আগে তিনি সিলেট সার্কিট হাউজেও গিয়েছিলেন।
তবুও যাননি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সিউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রার অনুষ্ঠানে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
অবশ্য সিউক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরীর ভেতরে-ভেতরে কিছু একটা হয়েছে, সেটা আগেই প্রকাশিত হয়েছে। গত রোববার বিকেলে প্রবাসী কল্যানমন্ত্রীর প্রকাশিত সফরসূচিতে সিউকের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু এদিন রাতে এই সফরসূচি সংশোধন করে সিউকের অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার কারণেই তিনি অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেছেন। এতে নতুন করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী মধ্যকার পুরোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে।
তবে বিষয়টি মানতে নারাজ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যানমন্ত্রীকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেটে আসার পর সার্কিট হাউজে গিয়ে আমন্ত্রিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছেন। কিন্তু কেন অনুষ্ঠানে আসেননি সেটা জানি না।
মঙ্গলবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর। এমনকি অনুষ্ঠানের আগের দিন রোববার বিকেলে প্রকাশিত তাঁর সফরসূচিতেও সিউকের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
কিন্তু প্রথম সফরসূচির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংশোধিত সফরসূচিতে অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। মন্ত্রীর একান্ত সচিব বিজন কুমার সিংহের সই করা প্রথম সফরসূচিতে প্রথম সূচিতে সিউকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রাত ৯টা ৫ মিনিটে পাঠানো দ্বিতীয় সূচিতে তা আর নেই।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার কারণেই তিনি অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেছেন।
এদিকে, মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুষ্ঠানে না আসাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, মন্ত্রীমহোদয় সিলেটে এসেছেন তিনি সার্কিট হাউজে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সাথে দেখা করে গিয়েছেন। আমাকে যাবার সময় বলেছেন দূরে জেলা সুনামগঞ্জে যাবেন সেজন্য তিনি অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন না। তাছাড়া আমাদের আরেক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও আসার কথা থাকলেও তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে একটি সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য সিলেটে আসতে পারেননি। তিনি আমাকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি মনেকরি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে না আসার ঘটনাটি স্বাভাব্কি অন্য কিছু নয়।
এ বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আমার একটা জরুরি কর্মসূচি আছে। সেটা শেষ করে সিলেটে আসব। পরে সুনামগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন-বিষয়ক একটা জরুরি মতবিনিময় সভা রয়েছে। যেহেতু দূরের জেলা সুনামগঞ্জ যেতে হবে। তাই সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। এটাই সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার কারণ। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিউক, আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, বিএনপি