নির্মাণকাজ শেষ তবুও জনবল সংকটে তালাবদ্ধ জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কারিগরি শিক্ষার নতুন দিগন্তের স্বপ্ন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট। জমি অধিগ্রহণ, দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনও শিক্ষাকার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটির ভবন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে ধুলো জমে নষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গণ্ডবপুর এলাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে। কিছুদিন আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকেও প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন মিলেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবনের দেয়াল ও মেঝেতে ধুলোর আস্তরণ জমেছে। হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য কেনা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন মালামালে ধুলো-বালি জমতে শুরু করেছে। এতে এসব মূল্যবান এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ভবন, আসবাব এবং অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রায় সবই প্রস্তুত। তবে জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির দরজায় এখনও তালা ঝুলে রয়েছে।
এ অবস্থায় নিজ এলাকায় হাতেকড়ি শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জগন্নাথপুর উপজেলা ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক আগ্রহী শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো জেলায় গিয়ে শিক্ষা অর্জন করতে হচ্ছে। এতে লেখাপড়ার খরচ বহন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী।
রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত চালু করা উচিত।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম জানান, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার নতুন দুয়ার খুলবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, পোশাক ও বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি দ্রুত চালু হলে স্থানীয় তরুণরা স্বল্প খরচে যুগোপযোগী শিক্ষা পেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন বলেন, স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আপাতত একজন লোক দিয়ে এটি দেখভাল করা হচ্ছে। বস্ত্র অধিদপ্তর থেকে এখনও জনবলের চূড়ান্ত চাহিদা পাঠানো হয়নি।
জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা, জনবল সংকট, শিক্ষার্থী, রানীগঞ্জ