০৮ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / দুর্ঘটনা

গ্রামের বাড়ি যাওয়া হলো না, দুর্ঘটনায় ছোট্ট জাইফাকে হারিয়ে নির্বাক জান্নাতুল-মোহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০৯ অপরাহ্ন


সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বসে আছে দুই ভাইবোন ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল আর তার ছোট ভাই মোহাম্মদ। চোখে-মুখে বিস্ময় আর শোকের ছাপ, মুখে কোনো কথা নেই। শয্যায় শুয়ে আছেন তাদের অচেতন বাবা জাহাঙ্গীর আলম, পাশেই আহত মা নুরুন নাহার। কিন্তু যাকে সবচেয়ে বেশি খুঁজছে দুজনের চোখ, সেই ছোট বোন জাইফা আর নেই।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার বিক্রমপুরের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য পুরো পরিবার নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন জাহাঙ্গীর আলম। দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় বছরের পর বছর ধরে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি, গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন প্রতিবেশীদের দেয়া তথ্যে এমনটাই জানা যায়। কিন্তু সেই যাত্রা যে এমন বিভীষিকা বয়ে আনবে, কল্পনাও করেননি কেউ।


ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিপরীতমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এই পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। প্রাণ হারায় সবচেয়ে ছোট সদস্য জাইফা। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাবা-মা দুজনই।


দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা ঘিরে আছেন অচেতন জাহাঙ্গীরকে। কথা বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় দুর্ঘটনার বর্ণনা দেয় জান্নাতুল। সে বলে, ‘গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে আমরা সবাই ইউনিক বাসে উঠি। আমি আর আমার ভাই বাসের বাম পাশে বসেছিলাম। বাবা-মা ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে ছিলেন। হঠাৎ দেখি একটি মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক চলাচল করছে। এরপর কী হয়েছে, ঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, বিকট শব্দ হয়েছিল। তারপর আর কিছু বলতে পারি না।


পরিবারটির প্রতিবেশী সামিয়া বেগমও নিশ্চিত করেন একই তথ্য দীর্ঘদিনের টায়ার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথেই এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন পুরো পরিবার নিয়ে।


পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাতটা দশ মিনিটের দিকে কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাতজন, পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও দুজনের। আহতের সংখ্যা অন্তত ১৪, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর বলেন, ‘হাসপাতালে আহত অবস্থায় ১৬ জনকে আনা হয়। সেখানে আহত চার বছর বয়সী একটি শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত অবস্থায় (ব্রট ডেড) পাওয়া যায়, যার কারণ হিসেবে গুরুতর মাথার আঘাতকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনা, ওসমানীনগর, বাস দুর্ঘটনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, দুর্ঘটনায় মৃত্যু, পরিবারের শোক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ