তারেক রহমান কি আমাদের মেরে ফেলতে চান? প্রশ্ন ডা. মাহমুদা মিতুর
রাজনীতি
প্রকাশঃ ৩০ জুলাই, ২০২৬ ৫:০৩ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে এখন দুটি প্রধান কাজ বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কার। বিচার না হলে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ ফিরে আসবে, আর সংস্কার না হলে নতুন করে স্বৈরাচার তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট সফরে এসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এ আন্দোলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন এবং শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী শহীদ রুদ্র সেনসহ সিলেট অঞ্চলের আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড় দুটি অঙ্গীকার হলো বিচার ও সংস্কার। তার ভাষায়, ‘বিচার না হলে আগের ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার ফিরে আসবে। আর সংস্কার না হলে যেই ক্ষমতায় আসুক, এই কাঠামোতে নতুন স্বৈরাচার তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজই হলো রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু গত ১৬ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করারও সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া উচিত। কোনো বক্তব্য আইন লঙ্ঘন করলে তা দেখার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার, কোনো ছাত্রসংগঠন বা অন্য রাজনৈতিক দলের নয়।’ তার ভাষায়, ‘কথার জবাব কথায় দিতে হবে, এটাই গণতন্ত্র।’
নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গচিত্রের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে। ভিন্নমত দমন বা শারীরিক হামলার সংস্কৃতি গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার নামে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অযথা বাধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই এখন দেশ গড়ার দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, স্বচ্ছ প্রশাসন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বৈষম্য দূরীকরণ ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে এবং নতুন করে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা দমননীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া যাবে না।
বক্তব্যের শেষদিকে সম্প্রতি নিহত আজাদ ও শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবি জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত করা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক দায়ও।
নাহিদ ইসলাম, এনসিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, শাবিপ্রবি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জুলাই পদযাত্রা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার