২১ জুলাই ২০২৬

অপরাধ-বিচার / নোটিশ

সাত কার্যদিবসের মধ্যে দখল হওয়া জমির তালিকা চাইলেন সুনামগঞ্জের সিজেএম

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জ জেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমির মধ্যে কী পরিমাণ বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা তলব করেছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গত ১৯ জুলাই জারি করা এক স্মারকে (নং সিজেএম/সুনাম/প্রশাঃ-২২৫) ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২৫ ধারার এখতিয়ারবলে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ওই স্মারকে সওজের মালিকানাধীন কতটুকু জমি অবৈধ দখলে আছে তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১২ ধারার আওতায় ইতিমধ্যে কোনো আইনি প্রতিকার নেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে।

স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, আর্থিক সংস্থান ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত ব্যবহার শুরু হতে প্রায়ই বিলম্ব হয়। এই সুযোগে একটি চক্র সরকারি সম্পত্তি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে মামলা করে তাদের অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টাও চালায় বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিজেএমের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলায় সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এর বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি। এ কারণেই এসব জমি দখলের প্রবণতা বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্মারকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করা, দখলে রাখা কিংবা দখলের চেষ্টা করা  এসবই ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। তা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলির কারণে অনেক ক্ষেত্রে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিজেএম তার নির্দেশনায় বলেন, সরকারি সম্পত্তি অপব্যবহার বা অবৈধ দখলের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ থাকলেও আইন অনুযায়ী সাধারণ মানুষের সরাসরি আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সওজ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ছকে দখল হওয়া জমির পরিমাণ, অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে ইতিপূর্বে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তার অগ্রগতিও প্রতিবেদনে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না হলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে সিজেএম কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, সড়ক, সড়ক ও জনপথ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ