২১ জুলাই ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত শতাধিক ঘর, পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য নেই ক্ষতিগ্রস্তদের

প্রতিনিধি, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ ১:৩২ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা একাধিক গ্রামে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। আকস্মিক এই ঢলের প্রবল স্রোতে বহু বসতঘর একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে, ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন স্বজনের বাড়িতে অথবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনের জীবনে দুর্ভোগ যেন থামছেই না। কয়েক বছর আগে বজ্রপাতে স্বামীকে হারানোর পর তিনি পাথর ও কয়লার ডিপোতে শ্রমিকের কাজ করে অতি কষ্টে একটি ছোট বসতঘর তুলেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত সেই ঘরটিও কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সংসার চালাতেই যেখানে তার নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে নতুন করে ঘর তোলার কথা চিন্তা করাও তার কাছে এখন অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।

রাবেয়া খাতুন বলেন, অনেক কষ্ট করে ঘরটা বানিয়েছিলাম। ঢলের পানিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছি। একটা নিজের ঘরই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া আমার।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিনের বসতঘরও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হলেও ঘর মেরামত বা পুনর্নির্মাণের কোনো পথ এখনো তিনি খুঁজে পাননি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বিউটি আক্তার জানান, ঢলের সময় জীবন বাঁচাতে তাকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল। পানি নামার পর ফিরে গিয়ে দেখেন, ঘরটি বসবাসের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে নতুন করে ঘর তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, মাইঝহাটি, জঙ্গলবাড়ি, লাকমা, লালঘাট, চানপুর ও কলাগাঁও—এই আট গ্রামে পাহাড়ি ঢলের আঘাতে শতাধিক পরিবার ক্ষতির শিকার হয়েছে। বসতঘরের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢলের পানিতে। দুর্যোগের পর কয়েক সপ্তাহ পার হলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো কোনো সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মেহদী হাসান হৃদয় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে তাদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, পাহাড়ি ঢল, ক্ষতিগ্রস্ত

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ