২৫ জুলাই ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ, আলিয়া মাদরাসা মাঠ পরিদর্শনে নেতারা
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২০ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ন
দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা পুকুরে অবশেষে শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উদ্ধার অভিযান। বছরের পর বছর অবহেলা, কচুরিপানা আর আবর্জনার স্তূপে হারিয়ে যাওয়া পুকুরটি এখন ফিরে পেতে যাচ্ছে তার হারানো প্রাণ। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পুকুর পরিষ্কারের কার্যক্রম। আধুনিক উইড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে অপসারণ করা হচ্ছে পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানা ও জমে থাকা আবর্জনা।
খোজারখলা সমাজকল্যাণ সংঘের পেছনে অবস্থিত এই জলাশয় একসময় ছিল এলাকাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি ক্রমেই পরিণত হয় দুর্গন্ধ, মশা আর পরিবেশ দূষণের কেন্দ্রে। চারপাশে নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বরাবরই।
কয়েকদিন আগে পুকুরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সেই ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, আমরা কারও দাবির প্রেক্ষিতে নয়, নিজেদের দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থেকেই একের পর এক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কয়েকদিন আগে খোজারখলায় এসে পুকুরের দুরবস্থা দেখে এলাকাবাসীকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছিলাম, আজ সেই কাজই শুরু করেছি।
পুকুরের বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, পুকুরটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় সম্পূর্ণ ভরে গিয়েছিল। নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনাও ঘটছিল। পরিবেশ দূষণের কারণে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। আমরা অবিলম্বে এটি পরিষ্কার করে খনন করব এবং যতটা সম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।
পুকুর সংরক্ষণে এলাকাবাসীর সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শুধু আবর্জনা পরিষ্কার ও খনন করে দৃষ্টিনন্দন করলেই চলবে না, এটি টিকিয়ে রাখতে এলাকাবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে। এটি এলাকাবাসীরই সম্পদ, এলাকাবাসীই এটি ব্যবহার করবেন। তাই পুকুরে যেন কেউ আবর্জনা না ফেলেন, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না সিটি করপোরেশন। পুকুরটিকে ঘিরে গড়ে তোলা হবে একটি নিরাপদ ও নান্দনিক পরিবেশ এমন পরিকল্পনার কথাও জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, পুকুরের চারপাশে তৈরি করা হবে হাঁটার পথ, যেখানে এলাকাবাসী নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং অবসর সময় কাটাতে পারবেন। এভাবেই জায়গাটি রূপ নেবে ছোট্ট এক বিনোদন ও বিশ্রামকেন্দ্রে।
সিসিক জানিয়েছে, নগরীর জলাশয়গুলো সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে হাতে নেওয়া হয়েছে ধারাবাহিক কর্মসূচি। জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণএই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে এই উদ্যোগ।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোশাইদ আহমদ, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ খোজারখলা এলাকার একাধিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।
সিলেট, সিটি করপোরেশন, দক্ষিণ সুরমা, খোজারখলা পুকুর