১৯ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

স্মার্ট সিটির পথে সিলেট, ২৫ বছরেও চালু হয়নি ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল

মোসাইদ রাহাত

প্রকাশঃ ১৮ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫৪ অপরাহ্ন


স্মার্ট সিটির পথে হাঁটছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এখনো চলছে কয়েক দশক আগের পদ্ধতি। ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল না থাকায় নগরীর ব্যস্ত মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের হাত ও বাঁশের লাঠির ইশারাই একমাত্র নিয়ন্ত্রক। এতে করে সনাতন পদ্ধতিতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। 

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিকি) প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পরও আধুনিক এই সুবিধা পাচ্ছে না নগরবাসী। অন্যদিকে, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় যানজট ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন নগরবাসী। 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে বাস্তবায়ন হচ্ছে স্মার্ট সিটি প্রকল্প। এই বড় প্রকল্পে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা আধুনিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা এবারও বাদ পড়েছে।

১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত সিলেট পৌরসভা ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল উন্নীত হয় সিটি কর্পোরেশনে। বর্তমানে ৪২টি ওয়ার্ডের এই নগরীর সরু সড়কে একসঙ্গে চলাচল করে রিকশা-ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন গণপরিবহন। ফলে যানজট এখানে নৈমিত্তিক দৃশ্য।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখনো পুলিশ বক্স পর্যন্ত নেই। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তীব্র রোদ কিংবা মুষলধারার বৃষ্টিতেও সড়ক ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান না—হাত তুললে গাড়ি থামে, হাত নামালে চলে, এভাবেই চলছে নগরীর যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কামাল আহমদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সকল সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা অন্যতম। ডিজিটাল সিগনাল চালু হলে ঝড়, বৃষ্টি ও তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা লাগবে না। সেই কষ্টটা অনেকটাই লাঘব হতো।’

ডিজিটাল সিগনালের অনুপস্থিতিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। শুধু হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হয় বিভ্রান্তি, দীর্ঘ হয় যানজট। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের মূল্যবান সময়, অন্যদিকে চালকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে যান চলাচলের সুযোগ থাকলে এই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসত বলে মত ভুক্তভোগীদের।

সিএনজি অটোরিকশাচালক রাব্বী রহমান বলেন, ‘ডিজিটাল সিগনাল না থাকায় কোন মোড়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বোঝাই যায় না। ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করেই চলতে হয়, ফলে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং যানজট আরও দীর্ঘ হয়। 

তিনি বলেন, ‘এতে যেমন আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি জ্বালানিও খরচ হচ্ছে বাড়তি। ডিজিটাল সিগনাল থাকলে অন্তত নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে চলাচল করা যেত, ভোগান্তিও অনেকটা কমে যেত।’

তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৬ সালে নগরীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিগনাল লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ পরবর্তীতে আর টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

যানজট নিরসনে তারা ইতোমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদিপ্ত রায় বলেন, ‘সিলেট নগরীকে সুন্দর এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অচিরেই বিষয়গুলো সংযোজন করা প্রয়োজন। এজন্য সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল স্থাপনে শিগগিরই প্রকল্প নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারি এগুলো ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে বেশ পুলিশ সদস্য ও যানবাহন চালকদের সমস্যা হয়। আশা রাখি, আমরা অচিরেই এই প্রকল্পগুলো হাতে নেব যেনো সিটি করপোরেশনকে আধুনিকায়ন করা হয়।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

স্মার্ট সিটি, সিলেট, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, নগরায়ন, ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ