১৫ জুলাই ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’: রাতে ডালাসে মুখোমুখি ফ্রান্স–স্পেন

প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৭:২৩ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে আর মাত্র একটি বাধা। কিন্তু সেই বাধাটাই যেন আরেকটি ফাইনাল। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বুধবার ডালাসে মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যাদের অনেকেই সম্ভাব্য দুই ফাইনালিস্ট হিসেবে দেখেছিলেন, ভাগ্যের পরিহাসে তাদের লড়াই হচ্ছে শেষ চারের মঞ্চেই।


এই ম্যাচের বিজয়ী দল জায়গা করে নেবে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফাইনালে। পরাজিত দলের স্বপ্ন থেমে যাবে শিরোপার এক ধাপ আগে।


ফ্রান্সের পথচলা ছিল প্রায় নিখুঁত। দিদিয়ে দেশমের দল এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের সবকটিই জিতেছে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে তারা। আক্রমণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় ম্যাচে তাঁর আট গোল তাকে রেখেছে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে। আক্রমণে তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন ওসমান দেম্বেলে, যার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচ গোল। অন্যদিকে ছয় অ্যাসিস্ট করে সৃজনশীলতার দিক থেকে অন্যতম সেরা মাইকেল অলিজে।


এই ম্যাচ জিততে পারলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে ফ্রান্স। ইউরোপের কোনো দল হিসেবে এর আগে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছিল কেবল পশ্চিম জার্মানি।


তবে ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করছে সমান শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। রক্ষণে দৃঢ়তার পাশাপাশি বলের দখল, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রভাবশালী দল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।


রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্পেনের মাঝমাঠ প্রতিপক্ষকে সময়ই দেয় না ছন্দে ফেরার। বল হারানোর গড়ে মাত্র ১১ দশমিক ৬ সেকেন্ডের মধ্যেই আবার দখল ফিরে পায় তারা, যা চলতি বিশ্বকাপের বাকি সেমিফাইনালিস্টদের মধ্যে সেরা।


স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে নিজেও ম্যাচটির গুরুত্ব বোঝাতে একে আখ্যা দিয়েছেন ‘ফাইনালের আগের ফাইনাল’।


আসলে এই লড়াইকে কেবল ফ্রান্সের আক্রমণ বনাম স্পেনের রক্ষণ বললে পুরো চিত্র ফুটে ওঠে না। দুই দলই আক্রমণ ও রক্ষণ এই দুই বিভাগেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। ফ্রান্সের শক্তি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ও সরাসরি আক্রমণ। অন্যদিকে স্পেনের মূল ভরসা ছোট ছোট পাস, ধৈর্য আর বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।


দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসও ম্যাচটিতে যোগ করছে বাড়তি উত্তাপ। বিশ্বকাপে এটি হবে তাদের দ্বিতীয় মুখোমুখি। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনকে ৩–১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্লা স্পেনের দিকেই ভারী। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১০ দেখায় সাতটিতেই জিতেছে লা রোহা। সর্বশেষ ইউরো ২০২৪ ও নেশনস লিগ ২০২৫-এর সেমিফাইনালেও জয় পেয়েছে তারা।


ফলে ফ্রান্স নামছে পুরোনো হিসাব চুকানোর লক্ষ্য নিয়ে। অন্যদিকে স্পেন চাইবে সাম্প্রতিক আধিপত্য ধরে রাখতে।


দল নির্বাচনেও রয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা। ফ্রান্স শিবিরে অহেলয়াঁ চুয়ামেনি, উইলিয়াম সালিবা ও দায়ো উপামেকানোর ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। স্পেনের শিবিরে অবশ্য বড় কোনো চোটের খবর নেই।


পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটার সামান্য এগিয়ে রাখছে ফ্রান্সকে। তবে ব্যবধান এতটাই কম যে এক মুহূর্তের ভুল, কিংবা কোনো এক তারকার অনুপ্রেরণাদায়ী মুহূর্তই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।


এক পাশে কিলিয়ান এমবাপের গতি ও গোলের ক্ষুধা, অন্য পাশে লামিনে ইয়ামালের সৃজনশীলতা ও বিস্ময়। একদিকে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন, অন্যদিকে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বসেরা হওয়ার অভিযাত্রা।


ডালাসে তাই অপেক্ষা করছে শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, আধুনিক ফুটবলের দুই পরাশক্তির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

ফ্রান্স বনাম স্পেন, বিশ্বকাপ ২০২৬, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, ফ্রান্স, স্পেন, কিলিয়ান এমবাপে, লামিনে ইয়ামাল, দিদিয়ে দেশম, লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ফিফা বিশ্বকাপ, ডালাস, ফুটবল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ