প্রবাসীর মরদেহ পরিবহন-দাফনে তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
রাজনীতি
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ন
সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আট জেলায় সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। পানি নামতে শুরু করায় উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং পরে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, বন্যায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আট জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিহত ৫৪ জনের অধিকাংশই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার সরবরাহের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় স্পিডবোট ও রাবার বোটও মোতায়েন করা হয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পানি নামতে শুরু করায় এখন পুনর্বাসন কার্যক্রমই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বন্যা-পরবর্তী রোগবালাই মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কাঁচা সড়ক কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় সংস্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু থাকবে। চলতি বছরের বন্যাকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি বুধবার থেকে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করবেন। মঙ্গলবারই তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেজিং প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যা, সিলেট, ত্রাণমন্ত্রী, আসাদুল হাবিব দুলু