১৫ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / মৃত‍্যু

বন্য প্রাণীর 'বন্ধু' সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১:১৩ অপরাহ্ন


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও দেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ সীতেশ রঞ্জন দেব মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।


সীতেশ রঞ্জন দেবের নাতি রাজদ্বীপ দেব তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ সীতেশ রঞ্জন দেবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।


পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এবং বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার বেলা দুইটায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নোয়াগ্রামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন পরিবেশবাদী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও গভীর শোক জানিয়েছেন।


প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ‘সীতেশ বাবু’ নামে পরিচিত সীতেশ রঞ্জন দেব কয়েক দশক ধরে আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন দেশের অন্যতম পরিচিত বন্য প্রাণী উদ্ধারকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


শুধু প্রাণী উদ্ধারই নয়, বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বন বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ বিপন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধার বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নিয়মিত তার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিতেন।


পারিবারিক সূত্র জানায়, কৈশোর থেকেই বন্য প্রাণীর প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। বাবা শিরীষ রঞ্জন দেবের সঙ্গে পশুপাখি পালন ও শিকারে যেতেন তিনি। সে সময় দেশে বন্য প্রাণী শিকারে তেমন বিধিনিষেধ ছিল না। ১৯৮৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর কিছুদিন শিকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সেই পথ থেকে সরে আসেন। এরপর আহত ও বিপন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধারে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন।


প্রথমে শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোডে নিজ বাড়ির আঙিনায় আহত প্রাণীর চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য একটি ছোট সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলেন তিনি। পরে সেটি পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার বাগানবাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে পরবর্তীতে সেটিই বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে।


গত কয়েক দশকে তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও পরিচর্যা পেয়ে হাজার হাজার বন্য প্রাণী আবারও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরে গেছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও তার স্বপ্ন থেমে থাকেনি। বর্তমানে তার দুই ছেলে সজল দেব ও সঞ্জিত দেব বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে বন্য প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


দেশে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনে সীতেশ রঞ্জন দেবের অবদানকে পরিবেশবাদীরা এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তার মৃত্যুতে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সীতেশ রঞ্জন দেব, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বন্য প্রাণী, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ