১৩ জুলাই ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১২ জুলাই, ২০২৬ ৮:১২ অপরাহ্ন

ছবিঃ ফাইল ছবি

বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল কম নামায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রধান নদ-নদীর পানি কমেছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে মনু খোয়াইসহ সবকটি নদনদীর পানি কমেছে। 

তবে এখনও এই দুই জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্যমতে, রোববার দুপুর পর্যন্ত মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। ২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। 

এদিকে বন্যা কবলিত এলকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পানিবাহিত রোগ। মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বন্যা আক্রন্তরা জানান, দুই দিন পানির নিচে থাকার পর গতকাল রাতে পানি কমেছে। তবে পানি কমার সাথে সাথে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষজন।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, বন্যা কবলিত এলকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সাথে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ করা আছে। যাতে সবাই পানিবাহিত রোগোর চিকিৎসা নিতে পারেন। 

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, বন্যায় জেলার চারটি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছিলেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। রোববার পর্যন্ত ২৬ হাজার ৫৪৪ জন মানুষ। জেলার দুইটি উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ২ হাজার ১৭২ জন মানুষ আশ্রিত রয়েছেন।  

তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবো জানায়, ইতোমধ্যে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। 

পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সবকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানায়, মনু নদীর চাঁদনীঘাট পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৫১ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার নিচে। আগের দিন রাতেও এ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মনু নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৪০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩ মিটার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো । একই সময়ে ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ১১ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩ মিটার ২৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৮ দশমিক ৩৬ মিটার। এটি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে জুড়ি নদীর পানিও কমছে। সন্ধ্যা ৬টায় নদীটির পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সব নদ-নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নত হবে আশা করা হচ্ছে। জেলার সব প্রধান নদ-নদীতেই পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তবে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। 

এদিকে হবিগঞ্জে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। বৃষ্টি কমে আসায় ধীরে ধীরে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে এবং সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।  

এর আগে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি কালীগঞ্জ এলাকায় বাধ ভেঙে গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আত্মীয় স্বজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেন বন্যাদুর্গতরা। 

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন। 

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, রোববার পর্যন্ত ২৮ হাজার ১৪০জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ টন চাল, ১ হাজার ২০২ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

বন্যা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, পানিবাহিত রোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ