১৮ জুন ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

বাজেটকে চানাচুর বলা মানে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান: বিরোধীদের জবাবে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ২:৫৩ অপরাহ্ন


জনগণের স্বার্থে প্রণীত বাজেটকে যাঁরা 'চানাচুর' বা 'গণবিরোধী' বলছেন, তাঁরা আসলে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যে বাজেটে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেট কখনো গণবিরোধী হতে পারে না।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপনের পর থেকেই বিরোধী মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের একাংশ বাজেটটিকে 'গণবিরোধী' আখ্যা দেন। কেউ কেউ এটিকে 'চানাচুরের মতো' বলেও মন্তব্য করেন। এই সমালোচনার সরাসরি জবাব দিতে গিয়েই আজ কড়া ভাষায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, এই বাজেটে শুধু ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডেই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের ছেলেমেয়েরা ভালোভাবে পড়ালেখা ও খেলাধুলা করতে পারে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতেও অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'যেই বাজেটে জনগণের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধার অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, কৃষক ভাইদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, আমাদের সন্তানরা যাতে ভালোভাবে লেখাপড়া শিখতে পারে তার জন্য সর্বোচ্চ বাজেট রেখেছি, সেই বাজেটকে বলে তারা গণবিরোধী বাজেট।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনিসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে বাজারে এসব পণ্যের দাম না বাড়ে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যে বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হয়, সেই বাজেটকে যাঁরা গণবিরোধী বলেন, তাঁরা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারেন?

পাশাপাশি দেশীয় শিল্প রক্ষায় একই ধরনের বিদেশি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, এতে দেশীয় কারখানাগুলো টিকে থাকবে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিরোধী সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ এই গোষ্ঠী যদি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, 'যারা এসব কাজে বাধা দিবে, জনগণকে তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না।'

শ্রীমঙ্গলের এই অনুষ্ঠানে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক, চা শ্রমিক পরিবারের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

মৌলভীবাজার, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, শ্রীমঙ্গল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ